ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

শৃঙ্খলা ফেরাতে হার্ডলাইনে প্রধানমন্ত্রী

রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তৃণমূল পর্যায়ে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মূলত সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন দলটির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের একটি অংশের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের ভালো অর্জনগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, যা শীর্ষ নেতৃত্বকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে। এসব অপকর্মের লাগাম টানতে দেশজুড়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো সংগ্রহ করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এই কঠোর বার্তার অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। দলীয় শীর্ষ মহলের নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যদিও অভিযুক্ত সংসদ সদস্য নিজের বিরুদ্ধে আনা এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচালনা কমিটির সঙ্গে বর্তমানে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং যার সঙ্গেই অপরাধের প্রমাণ মিলবে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে গত কিছুদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ভেঙে দেওয়ার নজির স্থাপন করেছে দলটি। এর মধ্যে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং অতিদ্রুত সেখানে নতুন নেতৃত্ব আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই রাতে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিগুলোও ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়া অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের অন্তত চৌদ্দজন নেতাকর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারক মহল মনে করছে, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের ধারাবাহিক কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই।

সরকার ও দলের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অপরাধপ্রবণতা দমনে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে প্রশাসন। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বারবার চাঁদাবাজি, সহিংসতা কিংবা জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে, তাদের গতিবিধির ওপর এখন গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চুয়াডাঙ্গা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করার অভিযোগে যুবদল ও কৃষক দলের একাধিক নেতাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা হয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কেউ যদি দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার করে, তবে তার দায় দল কখনোই নেবে না। তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ কর্তৃক আনীত কোনো মিথ্যা বা বানোয়াট অভিযোগ যাতে দলের নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

কুমিল্লায় ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে গেল অ্যাম্বুলেন্স

শৃঙ্খলা ফেরাতে হার্ডলাইনে প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত ০৯:৩০:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর দলের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। তৃণমূল পর্যায়ে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। মূলত সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলীয় অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন দলটির শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দলের একটি অংশের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সরকারের ভালো অর্জনগুলোও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, যা শীর্ষ নেতৃত্বকে যথেষ্ট অস্বস্তিতে ফেলেছে। এসব অপকর্মের লাগাম টানতে দেশজুড়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো সংগ্রহ করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলেই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

এই কঠোর বার্তার অংশ হিসেবে সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো গুরুতর অভিযোগে সংসদ সদস্য পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। দলীয় শীর্ষ মহলের নির্দেশ পাওয়ার পর তিনি স্পিকারের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং পরবর্তীতে সংসদ সচিবালয় সংশ্লিষ্ট আসনটি শূন্য ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। যদিও অভিযুক্ত সংসদ সদস্য নিজের বিরুদ্ধে আনা এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচালনা কমিটির সঙ্গে বর্তমানে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে এবং যার সঙ্গেই অপরাধের প্রমাণ মিলবে তাকেই আইনের আওতায় আনা হবে।

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারের অংশ হিসেবে গত কিছুদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমিটি ভেঙে দেওয়ার নজির স্থাপন করেছে দলটি। এর মধ্যে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং অতিদ্রুত সেখানে নতুন নেতৃত্ব আনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একই রাতে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটিগুলোও ভেঙে দেওয়া হয়। এছাড়া অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিএনপি এবং এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের অন্তত চৌদ্দজন নেতাকর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের নীতিনির্ধারক মহল মনে করছে, অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের ধারাবাহিক কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ খোলা নেই।

সরকার ও দলের বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, অপরাধপ্রবণতা দমনে দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছে প্রশাসন। বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে বারবার চাঁদাবাজি, সহিংসতা কিংবা জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে, তাদের গতিবিধির ওপর এখন গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে চুয়াডাঙ্গা, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের নাম ব্যবহার করে অপকর্ম করার অভিযোগে যুবদল ও কৃষক দলের একাধিক নেতাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা হয়েছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য কেউ যদি দলীয় পরিচয়ের অপব্যবহার করে, তবে তার দায় দল কখনোই নেবে না। তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ কর্তৃক আনীত কোনো মিথ্যা বা বানোয়াট অভিযোগ যাতে দলের নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর প্রভাব ফেলতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।