দীর্ঘদিন ধরে লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে সর্বাত্মক সহায়তা দিয়ে আসছে তেহরান। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নিজেদের প্রভাব বিস্তার এবং কৌশলগত অবস্থান সুদৃঢ় করতে এই গোষ্ঠীটিকে গড়ে তুলতে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে ইরান। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তিত আঞ্চলিক পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহর ভূমিকা ও কার্যপ্রণালীতে নতুন মাত্রা যোগ করতে তেহরান তাদের পুরোনো রণকৌশলে পরিবর্তন এনেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মাঝে লেবাননীয় এই গোষ্ঠীকে টিকিয়ে রাখা এবং তাদের সক্ষমতা আরও বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইরান। বিগত কয়েক দশকে যে প্রক্রিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে শক্তিশালী করা হয়েছিল, বর্তমান বাস্তবতায় তা কিছুটা পরিমার্জন করা হচ্ছে। এর ফলে আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
ইরানের এই কৌশলগত পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক সমীকরণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক দরকষাকষির বিষয়টিও। তেহরান কেবল সামরিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ফ্রমেও হিজবুল্লাহর দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফলে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ নতুন করে সাজাতে শুরু করেছে দেশটি।
সর্বোপরি, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখতে তেহরানের এই নতুন কৌশল শুধু হিজবুল্লাহর ভবিষ্যৎ নির্ধারণেই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই নতুন পদক্ষেপ কীভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং এর প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন বৈশ্বিক কূটনীতবিদরা।


































