সম্প্রতি ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে উৎপত্তি হওয়া একাধিক ভূকম্পনের প্রভাবে বাংলাদেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বেশ কিছু জেলা কেঁপে ওঠে। মধ্যরাতের দিকে সংঘটিত এই ভূকম্পনগুলোর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে বেরিয়ে আসেন। দেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থার সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় ভূকম্প বিজ্ঞান কেন্দ্রের (ইএমএসসি) তথ্যানুযায়ী, প্রথম কম্পনটি অনুভূত হয় মধ্যরাতে ঠিক ১২টা ১২ মিনিটে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় আঘাত হানা ওই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৪ দশমিক ৯। এর সুনির্দিষ্ট উৎপত্তিস্থল এবং ভূগর্ভস্থ গভীরতার কারণে দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এর তীব্রতা বেশ ভালোভাবেই অনুভূত হয়েছে।
এই ভূকম্পনের রেশ কাটতে না কাটতেই অল্প সময়ের ব্যবধানে মিজোরাম ও ত্রিপুরা সংলগ্ন অঞ্চলগুলোতে আরও দুই দফা ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়। প্রথম কম্পনের পর রাত ১টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত বিভিন্ন মাত্রায় এই কম্পনগুলো অব্যাহত ছিল। ফলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ফেনীসহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা গভীর রাতে আকস্মিক এই ভূকম্পনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ও এর আশেপাশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ভূকম্পনপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত। এ ধরনের মাঝারি ও মৃদু মাত্রার ভূকম্পন বড় ধরনের কোনো বিপর্যয়ের পূর্বাবাস হতে পারে বলে মনে করেন অনেকে। তবে বর্তমান সময়ে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর না এলেও, ভবিষ্যতে যেকোনো বড় ধরনের ভূমিকম্প মোকাবিলায় ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে মেনে চলা এবং সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।































