ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান আড়াই লাখ কোটি টাকা

দেশের আর্থিক খাতের চরম সংকটের চিত্র উঠে এসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে। বর্তমানে দেশের মোট ২২টি ব্যাংক মারাত্মক লোকসানের মুখে রয়েছে এবং এগুলোর পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকার বেশি। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ব্যাংক খাতের এই বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেন কমিটির সদস্যরা।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক, দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক, ১৫টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং একটি বিদেশি ব্যাংক। উচ্চ মাত্রার খেলাপি ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারা, তীব্র মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল সম্পদমানের কারণেই ব্যাংকগুলোর উপার্জনের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে অনেক ব্যাংক পরিচালন পর্যায়ে মুনাফা অর্জন করলেও শেষ পর্যন্ত নিট ক্ষতির মুখে পড়ছে।

তীব্র তারল্যসংকট সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এগিয়ে এসেছে এবং সংকটগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংকট উত্তরণে চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১২টি ব্যাংককে জরুরি সহায়তা বা ডিমান্ড লোন হিসেবে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক খাতের এই তরল সম্পদের বণ্টন সব জায়গায় সমান নয়, বরং অনেক ইসলামী ও প্রচলিত ধারায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

এদিকে ব্যাংক খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে উচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, খেলাপি ঋণের উচ্চহার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এই উচ্চ হার কমাতে এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকের সংখ্যা কমানো এবং উচ্চ আদালতে আটকে থাকা হাজার হাজার ঋণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা বেঞ্চ গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।

জনপ্রিয়

রামপুরায় অস্ত্রসহ ‘পিচ্চি আল-আমিন’সহ গ্রেপ্তার ৬

২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান আড়াই লাখ কোটি টাকা

প্রকাশিত ০৩:৪৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

দেশের আর্থিক খাতের চরম সংকটের চিত্র উঠে এসেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিবেদনে। বর্তমানে দেশের মোট ২২টি ব্যাংক মারাত্মক লোকসানের মুখে রয়েছে এবং এগুলোর পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকার বেশি। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ব্যাংক খাতের এই বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেন কমিটির সদস্যরা।

মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে লোকসানে থাকা ব্যাংকগুলোর বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক, দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক, ১৫টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং একটি বিদেশি ব্যাংক। উচ্চ মাত্রার খেলাপি ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে না পারা, তীব্র মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল সম্পদমানের কারণেই ব্যাংকগুলোর উপার্জনের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর ফলে অনেক ব্যাংক পরিচালন পর্যায়ে মুনাফা অর্জন করলেও শেষ পর্যন্ত নিট ক্ষতির মুখে পড়ছে।

তীব্র তারল্যসংকট সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এগিয়ে এসেছে এবং সংকটগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে বিশেষ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সংকট উত্তরণে চলতি বছর সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ১২টি ব্যাংককে জরুরি সহায়তা বা ডিমান্ড লোন হিসেবে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকা প্রদান করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক এবং ন্যাশনাল ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহায়তা পেয়েছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংক খাতের এই তরল সম্পদের বণ্টন সব জায়গায় সমান নয়, বরং অনেক ইসলামী ও প্রচলিত ধারায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে।

এদিকে ব্যাংক খাতের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে উচ্চ খেলাপি ঋণের পরিমাণ। সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গেছে, খেলাপি ঋণের উচ্চহার নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নানা উদ্যোগ নিলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। এই উচ্চ হার কমাতে এবং খেলাপি ঋণ আদায়ে প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকের সংখ্যা কমানো এবং উচ্চ আদালতে আটকে থাকা হাজার হাজার ঋণ মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা বেঞ্চ গঠনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।