ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

আইনের শাসন ও মানসম্মত জনসেবা নিশ্চিত না হলে মানুষের আস্থা কমে

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থার নানা জটিলতা ও বৈশ্বিক সংকটের সুরাহা করতে গিয়ে এসব সংস্থা অনেক ক্ষেত্রেই আশানুরূপ ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাষ্ট্র এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। বিশ্বমঞ্চে নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মেরুকরণের কারণে এসব সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব এবং যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ায় এই আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সংস্থাগুলো সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গতিশীলতা ও মানসম্মত সেবার ঘাটতি থাকায় বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা ছাড়া সংস্থাগুলোর পক্ষে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা না হলে সার্বিক জনসেবার মানও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি অনেক দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থাও জনআস্থা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সংকট উত্তরণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন নীতি নির্ধারকরা।

ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সংকটগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে হলে এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কার্যপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল আস্থার এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। অন্যথায় বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয়

২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান আড়াই লাখ কোটি টাকা

আইনের শাসন ও মানসম্মত জনসেবা নিশ্চিত না হলে মানুষের আস্থা কমে

প্রকাশিত ০২:৪৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মানুষের আস্থা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থার নানা জটিলতা ও বৈশ্বিক সংকটের সুরাহা করতে গিয়ে এসব সংস্থা অনেক ক্ষেত্রেই আশানুরূপ ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং বিভিন্ন রাষ্ট্র এই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। বিশ্বমঞ্চে নানা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মেরুকরণের কারণে এসব সংস্থার সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব এবং যথাযথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়ায় এই আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্ববাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই সংস্থাগুলো সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে গতিশীলতা ও মানসম্মত সেবার ঘাটতি থাকায় বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড রক্ষা করে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা ছাড়া সংস্থাগুলোর পক্ষে হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, বিশ্বজুড়ে আইনের শাসন এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা না হলে সার্বিক জনসেবার মানও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পাশাপাশি অনেক দেশের অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থাও জনআস্থা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই সংকট উত্তরণের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন নীতি নির্ধারকরা।

ভবিষ্যতে বৈশ্বিক সংকটগুলো সফলভাবে মোকাবিলা করতে হলে এই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কার্যপদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমেই কেবল আস্থার এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। অন্যথায় বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।