ঢাকা ০১:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo তৃণমূলের ১০ বিধায়কের পদ বাতিলের আবেদন খারিজ করলেন স্পিকার Logo মব–সংস্কৃতি: ক্ষোভের প্রকাশ, নাকি সংগঠিত সন্ত্রাস Logo আইএমএফের নতুন ঋণ ৪৫০ কোটি ডলার, চুক্তি হতে পারে ডিসেম্বরে Logo দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম Logo প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনটিসি Logo জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমান হাসপাতালে ভর্তি Logo বিদেশি বীজনির্ভরতা কাটাতে কৃষিতে নতুন পরিকল্পনা Logo জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২য় সমাবর্তন: রেজিস্ট্রেশন শুরু ১২ অক্টোবর, অংশ নিতে পারবেন কারা Logo উপাচার্যকে চেয়ারে বসিয়ে ভূমিমন্ত্রী বললেন, ‘দুষ্কৃতকারীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই’ Logo পত্রিকা: ‘ঢাকায় প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস’

মব–সংস্কৃতি: ক্ষোভের প্রকাশ, নাকি সংগঠিত সন্ত্রাস

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক সময়ে সমাজে এক নতুন ও উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা মব সংস্কৃতি বা দলবদ্ধ আক্রমণ নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সমষ্টিগত ক্ষোভ ও আবেগ তৈরি হচ্ছে। এই আবেগ অনেক সময় এতটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে ব্যক্তি তার নিজস্ব বিচারবুদ্ধি ও যুক্তিপূর্ণ চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফলে মুহূর্তের মধ্যে একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দ্বিধাবোধ করে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সমষ্টিগত আচরণের পেছনে বহুবিধ মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ কাজ করে থাকে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সামাজিক ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা মানুষকে সহজেই সহিংস করে তোলে। যখন সাধারণ মানুষ দেখে যে প্রচলিত আইন ও বিচার প্রক্রিয়ায় দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না, তখন তারা নিজেদের মতো করে তাৎক্ষণিক বিচার করার পথ বেছে নেয়। এর ফলে সমাজে এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তবে এই ধরনের দলবদ্ধ আক্রমণ বা মব জাস্টিসকে কেবল সাধারণ ক্ষোভের প্রকাশ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এর পেছনে প্রায়শই সুনির্দিষ্ট কোনো মহল বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর উসকানি ও পূর্বপরিকল্পনা থাকে। তারা সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অশুভ উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করে। ফলে এটি অনেক সময় স্বতঃস্ফূর্ত কোনো প্রতিক্রিয়া না হয়ে বরং এক ধরণের সংগঠিত সন্ত্রাসে রূপ নেয়, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বিপজ্জনক প্রবণতা রোধ করতে হলে কেবল আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ করলেই চলবে না, বরং এর মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না করে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রোধ এবং গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক, যা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হতে পারে।

জনপ্রিয়

তৃণমূলের ১০ বিধায়কের পদ বাতিলের আবেদন খারিজ করলেন স্পিকার

মব–সংস্কৃতি: ক্ষোভের প্রকাশ, নাকি সংগঠিত সন্ত্রাস

প্রকাশিত ১২:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: সাম্প্রতিক সময়ে সমাজে এক নতুন ও উদ্বেগজনক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা মব সংস্কৃতি বা দলবদ্ধ আক্রমণ নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের সমষ্টিগত ক্ষোভ ও আবেগ তৈরি হচ্ছে। এই আবেগ অনেক সময় এতটাই তীব্র আকার ধারণ করে যে ব্যক্তি তার নিজস্ব বিচারবুদ্ধি ও যুক্তিপূর্ণ চিন্তা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ফলে মুহূর্তের মধ্যে একটি উচ্ছৃঙ্খল জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দ্বিধাবোধ করে না।

বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের সমষ্টিগত আচরণের পেছনে বহুবিধ মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণ কাজ করে থাকে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং সামাজিক ব্যবস্থার ওপর অনাস্থা মানুষকে সহজেই সহিংস করে তোলে। যখন সাধারণ মানুষ দেখে যে প্রচলিত আইন ও বিচার প্রক্রিয়ায় দ্রুত প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না, তখন তারা নিজেদের মতো করে তাৎক্ষণিক বিচার করার পথ বেছে নেয়। এর ফলে সমাজে এক চরম নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তবে এই ধরনের দলবদ্ধ আক্রমণ বা মব জাস্টিসকে কেবল সাধারণ ক্ষোভের প্রকাশ বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এর পেছনে প্রায়শই সুনির্দিষ্ট কোনো মহল বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর উসকানি ও পূর্বপরিকল্পনা থাকে। তারা সাধারণ মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অশুভ উদ্দেশ্য হাসিল করার চেষ্টা করে। ফলে এটি অনেক সময় স্বতঃস্ফূর্ত কোনো প্রতিক্রিয়া না হয়ে বরং এক ধরণের সংগঠিত সন্ত্রাসে রূপ নেয়, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

এই বিপজ্জনক প্রবণতা রোধ করতে হলে কেবল আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ করলেই চলবে না, বরং এর মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সাহস না করে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার রোধ এবং গুজব ছড়ানোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক, যা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সহায়ক হতে পারে।