ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাবার ১৭ ফ্ল্যাট, অথচ ৪ হাজার টাকার বাসায় থাকি, ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের অভিযোগ Logo চট্টগ্রাম বন্দর থেকে নেওয়া বিপজ্জনক রাসায়নিক বহনকারী কাভার্ডভ্যানে আগুন Logo নিজের মৃত্যুর গুজবে বিরক্ত আবুল হায়াত, বললেন ‘ঠিক আছি’ Logo মিরসরাইয়ে কারখানায় দগ্ধ হয়ে চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের মৃত্যু, অপমৃত্যুর মামলা Logo জিপিএ-৫ না পেলে বিয়ে ঠেকানো যেত না ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তিথি মালির Logo এলপিজি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল ২৫২ টাকা Logo ফের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ল Logo এআই ব্যবহার করে জাহ্নবীর অশালীন ভিডিও তৈরি, সমালোচনার ঝড় Logo কিয়েভে জার্মান চ্যান্সেলরের সফরের পরপরই গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে রাশিয়ার হামলা Logo মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষে যৌন উত্তেজক ওষুধ ও সরঞ্জাম, অপসারণ দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

মিরসরাইয়ে কারখানায় দগ্ধ হয়ে চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের মৃত্যু, অপমৃত্যুর মামলা

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি শিল্প কারখানায় ফার্নেসের ত্রুটির কারণে গলিত লোহা ছিটকে পড়ে দগ্ধদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফার্মিক স্টিল লিমিটেড নামের ওই কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানার চুল্লিতে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে গলিত লোহা ছিটকে চারজন কর্মী গুরুতর দগ্ধ হন। ঘটনার পরপরই তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

দুর্ঘটনায় দগ্ধ চারজনের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৫৩ বছর বয়সী চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং, ২৭ বছর বয়সী শ্রমিক শরিফুল ইসলাম এবং সমবয়সী আরেক শ্রমিক মনির হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফুল ইসলাম ও প্রকৌশলী জেংলিং হংকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ অক্টোবর শরিফুল এবং পরদিন ২ অক্টোবর চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং মারা যান। অন্যদিকে, মনির হোসেনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি ১ অক্টোবর রাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এই দুর্ঘটনায় দগ্ধ অপর শ্রমিক জুয়েল বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনার পর নিহত শরিফুলের পরিবার এবং কারখানার চীনা ও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে তাঁরা কোম্পানির পক্ষ থেকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

কারখানা কর্তৃপক্ষ ও নিহতের স্বজনদের মধ্যকার আলোচনার ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম গণমাধ্যমকে জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ ফৌজদারি মামলা করতে আগ্রহী না হওয়ায় পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে। দোভাষীর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা আলোচনা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জনপ্রিয়

বাবার ১৭ ফ্ল্যাট, অথচ ৪ হাজার টাকার বাসায় থাকি, ভাইয়ের বিরুদ্ধে বোনের অভিযোগ

মিরসরাইয়ে কারখানায় দগ্ধ হয়ে চীনা প্রকৌশলীসহ ৩ জনের মৃত্যু, অপমৃত্যুর মামলা

প্রকাশিত ০৬:১৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের একটি শিল্প কারখানায় ফার্নেসের ত্রুটির কারণে গলিত লোহা ছিটকে পড়ে দগ্ধদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফার্মিক স্টিল লিমিটেড নামের ওই কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানার চুল্লিতে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেখান থেকে গলিত লোহা ছিটকে চারজন কর্মী গুরুতর দগ্ধ হন। ঘটনার পরপরই তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

দুর্ঘটনায় দগ্ধ চারজনের মধ্যে তিনজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৫৩ বছর বয়সী চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং, ২৭ বছর বয়সী শ্রমিক শরিফুল ইসলাম এবং সমবয়সী আরেক শ্রমিক মনির হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় শরিফুল ইসলাম ও প্রকৌশলী জেংলিং হংকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১ অক্টোবর শরিফুল এবং পরদিন ২ অক্টোবর চীনা প্রকৌশলী জেংলিং হং মারা যান। অন্যদিকে, মনির হোসেনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি ১ অক্টোবর রাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এই দুর্ঘটনায় দগ্ধ অপর শ্রমিক জুয়েল বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। এদিকে মর্মান্তিক এই ঘটনার পর নিহত শরিফুলের পরিবার এবং কারখানার চীনা ও বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের পক্ষে বিদেশি কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই আইনি জটিলতায় না জড়িয়ে তাঁরা কোম্পানির পক্ষ থেকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

কারখানা কর্তৃপক্ষ ও নিহতের স্বজনদের মধ্যকার আলোচনার ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম গণমাধ্যমকে জানান, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ ফৌজদারি মামলা করতে আগ্রহী না হওয়ায় পুলিশ অপমৃত্যুর মামলা হিসেবে বিষয়টি নথিভুক্ত করেছে। দোভাষীর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই পক্ষের সমঝোতা আলোচনা চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।