ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির Logo কুবিতে মুরাদনগর ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও মিলনমেলা Logo ঢাকেবির অধ্যাদেশের পক্ষে চার ছাত্র সংগঠনের সংহতি প্রকাশ Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার

সুদানে চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে জাবি ছাত্রশক্তির অবস্থান কর্মসূচি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সুদানে চলমান গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাবি শাখা।

রবিবার (২ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় মানববন্ধনে বক্তারা সুদানের চলমান পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনের গাজার সঙ্গে তুলনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন। কাজী কাজী মেহরাব তূর্যের সঞ্চলনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ছাত্রশক্তি, জাবি শাখার যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, আমরা মনে করছি, সুদানকে ফিলিস্তিনের গাজায় পরিণত করার চক্রান্ত চলছে। বিশ্ব মানবতা যেভাবে গাজাবাসীর পক্ষে কথা বলে, কিন্তু আফ্রিকার দেশ হওয়ায় আমরা সুদানের মানুষদের পক্ষে কথা বলছি না। আজকে বিশ্ব মিডিয়া, জাতিসংঘ এবং ওআইসি (OIC) নিরব। ফলশ্রুতিতে আরব আমিরাতের (UAE) ফান্ডিংয়ে সেখানে নির্বিচারে মানুষ মারা হচ্ছে।

ছাত্রশক্তির মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, সুদানে দুটি আধা সামরিক দল এবং সরকারি সেনাবাহিনী ক্ষমতার লোভে গণহত্যা চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য সাধারণ নিরীহ মানুষ, যাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই। এর পিছনে বিশ্বমোড়ল আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং ইউএই (UAE) মদদ দিচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য আসলে সেই দেশের মানুষ নয়, সেখানকার ভূমি ও সম্পদ- যেমন স্বর্ণ চোরাচালান ও বন্দর দখলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ফুলেফেঁপে তোলা।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,  এই সম্পদ ও ব্যবসায়িক লাভের কারণে তারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, শিশুদেরকে মেরেও এবং নারীদের ধর্ষণ করেও কোনো অনুশোচনা বোধ করে না। তিনি এই ধরনের গণহত্যায় মদদদাতাদের বয়কট করার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

গণহত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে সমাপনী বক্তব্যে জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ধর্ম, জাতি, বর্ণ ভেদে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে- এমন এক মুহূর্তে আমরা সুদানের গণহত্যার প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছি। বিশ্বশক্তিগুলো একদম নীরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা বলতে চাই, এই গণহত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

বিশ্ব মিডিয়া ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, মানবাধিকারের সংজ্ঞা কি শুধু মুখে মুখেই? আমরা দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানাই, আপনারা সকলে সুদানের গণহত্যার প্রতিবাদ জানান। আমরা আজকের মানববন্ধন থেকে একটাই বার্তা দিতে চাই যে, সুদানের গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুদানে গণহত্যার চিত্র ভাইরাল হলেও, এই বিষয়ে বিশ্বব্যাপী তেমন কোনো আলোচনা লক্ষ্য করা যায়নি।

জনপ্রিয়

সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির

সুদানে চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে জাবি ছাত্রশক্তির অবস্থান কর্মসূচি

প্রকাশিত ১১:১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) সুদানে চলমান গণহত্যা ও জাতিগত নিধনের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাবি শাখা।

রবিবার (২ নভেম্বর) বিকাল সোয়া ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় মানববন্ধনে বক্তারা সুদানের চলমান পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনের গাজার সঙ্গে তুলনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতার তীব্র সমালোচনা করেন। কাজী কাজী মেহরাব তূর্যের সঞ্চলনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ ছাত্রশক্তি, জাবি শাখার যুগ্ম আহবায়ক জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, আমরা মনে করছি, সুদানকে ফিলিস্তিনের গাজায় পরিণত করার চক্রান্ত চলছে। বিশ্ব মানবতা যেভাবে গাজাবাসীর পক্ষে কথা বলে, কিন্তু আফ্রিকার দেশ হওয়ায় আমরা সুদানের মানুষদের পক্ষে কথা বলছি না। আজকে বিশ্ব মিডিয়া, জাতিসংঘ এবং ওআইসি (OIC) নিরব। ফলশ্রুতিতে আরব আমিরাতের (UAE) ফান্ডিংয়ে সেখানে নির্বিচারে মানুষ মারা হচ্ছে।

ছাত্রশক্তির মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসেন বলেন, সুদানে দুটি আধা সামরিক দল এবং সরকারি সেনাবাহিনী ক্ষমতার লোভে গণহত্যা চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য সাধারণ নিরীহ মানুষ, যাদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই। এর পিছনে বিশ্বমোড়ল আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং ইউএই (UAE) মদদ দিচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য আসলে সেই দেশের মানুষ নয়, সেখানকার ভূমি ও সম্পদ- যেমন স্বর্ণ চোরাচালান ও বন্দর দখলের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য ফুলেফেঁপে তোলা।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,  এই সম্পদ ও ব্যবসায়িক লাভের কারণে তারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে, শিশুদেরকে মেরেও এবং নারীদের ধর্ষণ করেও কোনো অনুশোচনা বোধ করে না। তিনি এই ধরনের গণহত্যায় মদদদাতাদের বয়কট করার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

গণহত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে সমাপনী বক্তব্যে জাবি শাখার আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান উজ্জ্বল বলেন, ধর্ম, জাতি, বর্ণ ভেদে মানুষ মানুষকে হত্যা করছে- এমন এক মুহূর্তে আমরা সুদানের গণহত্যার প্রতিবাদে দাঁড়িয়েছি। বিশ্বশক্তিগুলো একদম নীরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা বলতে চাই, এই গণহত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে অবিলম্বে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

বিশ্ব মিডিয়া ও মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, মানবাধিকারের সংজ্ঞা কি শুধু মুখে মুখেই? আমরা দেশবাসী ও বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানাই, আপনারা সকলে সুদানের গণহত্যার প্রতিবাদ জানান। আমরা আজকের মানববন্ধন থেকে একটাই বার্তা দিতে চাই যে, সুদানের গণহত্যা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুদানে গণহত্যার চিত্র ভাইরাল হলেও, এই বিষয়ে বিশ্বব্যাপী তেমন কোনো আলোচনা লক্ষ্য করা যায়নি।