ঢাকা ০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরিষাবাড়িতে বেড়েছে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা Logo দেশের বাজারে ডিটেইল মাস্টার” নুবিয়া ভি৮০ প্রো স্মার্টফোন উন্মোচন Logo বগুড়ায় নকল সিগারেট তৈরির কারখানায় অভিযান, বিপুল পরিমাণে নকল সিগারেট জব্দ Logo অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় তারেক রহমানের Logo নাগরিক সংকটেই ভোটের পাল্লা: ঢাকা–৬ আসনে গ্যাস–পানি–নিরাপত্তাই প্রধান ইস্যু Logo কুবিতে প্রোগ্রাম অ্যাক্রেডিটেশন ও একাডেমিক পরিকল্পনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা Logo গোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির দ্বাদশ বর্ষে পদার্পণ Logo কারা অধিদপ্তরকে ১৩ হাজার ধর্মীয় বই উপহার দিচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়  Logo ৮২ ঘণ্টার জন্য নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান নিষিদ্ধ করে নির্দেশনা জারি Logo হাওরে স্বল্পমেয়াদি সরিষা চাষ, বাড়তি লাভের সম্ভাবনা কৃষকদের

হাবিপ্রবির ২য় সমাবর্তন: সম্মাননা স্মারক না পাওয়ায় ক্ষোভে প্রাক্তনরা

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনকে ঘিরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পূর্বে যারা ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন তারা কোনো সম্মাননা স্মারক, চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড বা গোল্ড মেডেল পাবেন না। এই ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অনেকেই।

আগামী ২২ নভেম্বর আয়োজিত এ সমাবর্তনে মোট তিনটি ব্যাচকে সম্মাননা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু ২০২৩ সালের আগে পাশ করা শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশ নিতে ফি প্রদান করলেও সম্মাননা স্মারক পাবেন না এমন তথ্য জানার পর থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাবেক বিভাগীয়, অনুষদীয় ও ব্যাচভিত্তিক টপার শিক্ষার্থীরা।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সবাই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছি, আমরা পড়াশোনায় আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে ভালো ফলাফল করার চেষ্টা করেছি।কিন্তু আমাদের জন্য কোনো স্মারক থাকবে না আমাদের মেধার পরিশ্রমের কোনো মূল্য নাই এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।”

আরও একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, “সমাবর্তন জীবনে একবারই আসে। অথচ চমকপ্রদ রেজাল্ট ডিপার্টমেন্ট ফ্যাকাল্টির টপ করেও আমাদের এ গুরুত্বপূর্ণ দিনে অসম্মান করা হচ্ছে। অন্তত সম্মাননা স্মারক বা সার্টিফিকেট সমান কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে পারতো।”

এ বিষয়ে সমাবর্তন আয়োজন কমিটি ও প্রশাসন থেকে জানানো হয়, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩ সাল থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড বা গোল্ড মেডেল দেয়ার আইন পাশ হয়েছে। যার ফলে আমরা ২০২৩ সালের পরের ব্যাচগুলোরকে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দিব। এর পূর্বের ব্যাচগুলোর জন্য লিখিত কোনো আইন না থাকায় এখন পর্যন্ত তাদের দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর আগে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষকে উৎসাহিত করতে চারটি নতুন অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিন’স লিস্ট অ্যাওয়ার্ড, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড, ভাইস-চ্যান্সেলরস মেরিট অ্যাওয়ার্ড এবং চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড। এসব পুরস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নগদ অর্থ থেকে শুরু করে সোনার মেডেল পর্যন্ত পেয়ে থাকেন।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দাবি, একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেও নিজ নিজ ব্যাচে ফ্যাকাল্টিতে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখেও স্মারক না পাওয়ায় তারা নিজেদের অবহেলিত মনে করছেন।

এদিকে সমাবর্তনকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে সাজসাজ রব। আলোকসজ্জা, শোভাযাত্রা, পুনর্মিলনী ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত হলেও ফলাফলের কৃতিত্ব স্বরূপ কোনো সম্মাননা না পাওয়ার বিষয়টি প্রাক্তনদের আনন্দে ছায়া ফেলেছে।

জনপ্রিয়

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরিষাবাড়িতে বেড়েছে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা

হাবিপ্রবির ২য় সমাবর্তন: সম্মাননা স্মারক না পাওয়ায় ক্ষোভে প্রাক্তনরা

প্রকাশিত ০৮:০০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর ২০২৫

দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনকে ঘিরে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পূর্বে যারা ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন তারা কোনো সম্মাননা স্মারক, চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড বা গোল্ড মেডেল পাবেন না। এই ঘোষণায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন অনেকেই।

আগামী ২২ নভেম্বর আয়োজিত এ সমাবর্তনে মোট তিনটি ব্যাচকে সম্মাননা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু ২০২৩ সালের আগে পাশ করা শিক্ষার্থীরা সমাবর্তনে অংশ নিতে ফি প্রদান করলেও সম্মাননা স্মারক পাবেন না এমন তথ্য জানার পর থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাবেক বিভাগীয়, অনুষদীয় ও ব্যাচভিত্তিক টপার শিক্ষার্থীরা।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সবাই একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সমাবর্তনে অংশ নিচ্ছি, আমরা পড়াশোনায় আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে ভালো ফলাফল করার চেষ্টা করেছি।কিন্তু আমাদের জন্য কোনো স্মারক থাকবে না আমাদের মেধার পরিশ্রমের কোনো মূল্য নাই এটা অত্যন্ত হতাশাজনক। আমাদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।”

আরও একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী বলেন, “সমাবর্তন জীবনে একবারই আসে। অথচ চমকপ্রদ রেজাল্ট ডিপার্টমেন্ট ফ্যাকাল্টির টপ করেও আমাদের এ গুরুত্বপূর্ণ দিনে অসম্মান করা হচ্ছে। অন্তত সম্মাননা স্মারক বা সার্টিফিকেট সমান কোনো বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে পারতো।”

এ বিষয়ে সমাবর্তন আয়োজন কমিটি ও প্রশাসন থেকে জানানো হয়, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৩ সাল থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড বা গোল্ড মেডেল দেয়ার আইন পাশ হয়েছে। যার ফলে আমরা ২০২৩ সালের পরের ব্যাচগুলোরকে এই অ্যাওয়ার্ড তুলে দিব। এর পূর্বের ব্যাচগুলোর জন্য লিখিত কোনো আইন না থাকায় এখন পর্যন্ত তাদের দেওয়ার পরিকল্পনা নেই।”

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর আগে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষকে উৎসাহিত করতে চারটি নতুন অ্যাওয়ার্ড চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ডিন’স লিস্ট অ্যাওয়ার্ড, ডিন’স মেরিট অ্যাওয়ার্ড, ভাইস-চ্যান্সেলরস মেরিট অ্যাওয়ার্ড এবং চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড। এসব পুরস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নগদ অর্থ থেকে শুরু করে সোনার মেডেল পর্যন্ত পেয়ে থাকেন।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দাবি, একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেও নিজ নিজ ব্যাচে ফ্যাকাল্টিতে সর্বোচ্চ মেধার স্বাক্ষর রেখেও স্মারক না পাওয়ায় তারা নিজেদের অবহেলিত মনে করছেন।

এদিকে সমাবর্তনকে ঘিরে ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে সাজসাজ রব। আলোকসজ্জা, শোভাযাত্রা, পুনর্মিলনী ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রস্তুত হলেও ফলাফলের কৃতিত্ব স্বরূপ কোনো সম্মাননা না পাওয়ার বিষয়টি প্রাক্তনদের আনন্দে ছায়া ফেলেছে।