ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির Logo কুবিতে মুরাদনগর ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও মিলনমেলা Logo ঢাকেবির অধ্যাদেশের পক্ষে চার ছাত্র সংগঠনের সংহতি প্রকাশ Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার

জাবিতে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণ দিবস পালিত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ যথাযোগ্য মর্যাদায় নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণ দিবস পালন করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক দিবসটির কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন,“অধ্যাপক সেলিম আল দীন আমাদের জাতির গর্ব। নাট্যকলার যে একাডেমিক গুরুত্ব, তা তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। পাশ্চাত্য নাট্যধারার অনুকরণ থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিকড়কে কীভাবে শিল্পে রূপ দিতে হয়।তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তা দেখিয়ে গেছেন।”

প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সকালে পুরাতন কলা ভবন থেকে একটি স্মরণযাত্রা শুরু হয়ে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের সমাধি প্রাঙ্গণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার, অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. ইফসুফ হাসান অর্ক এবং সেলিম আল দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবস উদযাপন পর্ষদ ২০২৬-এর সদস্যবৃন্দসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার বলেন, “হাজার বছরের বাংলা নাট্যধারার ভেতর সেলিম আল দীন যেমন শিল্পের মূল সূত্র সন্ধান করেছেন, তেমনি নাট্যরীতির আঙ্গিককে ভেঙে নতুন সৃজনপথ নির্মাণ করেছেন। তাঁর নাটকে এই জনপদের জীবন উঠে এসেছে এক মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এই শেকড়মুখী ও নিরীক্ষাধর্মী নাট্যকারকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে-যাঁর হাত ধরেই এ বিভাগের জন্ম, এবং যাঁর শিল্পচিন্তা আজও আমাদের নিরন্তর প্রেরণার উৎস।”

এছাড়াও সেলিম আল দীনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে ঢাকা থিয়েটার, গ্রাম থিয়েটার, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, অফিসার সমিতি, আরশিনগর, স্বপ্নদল থিয়েটার, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র, অন্বিতা–সেলিম আল দীন বিদ্যাপীঠ, কাকতাড়ুয়া পাপেট, বুনন থিয়েটার, শহীদ টিটু থিয়েটারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে পুরাতন কলা ভবনে ‘সেলিম আল দীন ও বাংলা নাট্যের বিঔপনিবেশিক আত্মপরিচয়’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবন্ধ পাঠ করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. ইফসুফ হাসান অর্ক এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নিজার। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ খান।

উল্লেখ্য, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের যাত্রা শুরু হয় এবং তিনিই ছিলেন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

জনপ্রিয়

সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির

জাবিতে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণ দিবস পালিত

প্রকাশিত ১১:০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ যথাযোগ্য মর্যাদায় নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণ দিবস পালন করেছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক দিবসটির কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন,“অধ্যাপক সেলিম আল দীন আমাদের জাতির গর্ব। নাট্যকলার যে একাডেমিক গুরুত্ব, তা তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারাদেশে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। পাশ্চাত্য নাট্যধারার অনুকরণ থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব সংস্কৃতি ও শিকড়কে কীভাবে শিল্পে রূপ দিতে হয়।তিনি তাঁর সৃষ্টিকর্মের মধ্য দিয়ে তা দেখিয়ে গেছেন।”

প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সকালে পুরাতন কলা ভবন থেকে একটি স্মরণযাত্রা শুরু হয়ে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের সমাধি প্রাঙ্গণে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শেষ হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার, অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. ইফসুফ হাসান অর্ক এবং সেলিম আল দীনের ১৯তম প্রয়াণ দিবস উদযাপন পর্ষদ ২০২৬-এর সদস্যবৃন্দসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ফাহমিদা আক্তার বলেন, “হাজার বছরের বাংলা নাট্যধারার ভেতর সেলিম আল দীন যেমন শিল্পের মূল সূত্র সন্ধান করেছেন, তেমনি নাট্যরীতির আঙ্গিককে ভেঙে নতুন সৃজনপথ নির্মাণ করেছেন। তাঁর নাটকে এই জনপদের জীবন উঠে এসেছে এক মহাকাব্যিক ব্যঞ্জনায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ এই শেকড়মুখী ও নিরীক্ষাধর্মী নাট্যকারকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে-যাঁর হাত ধরেই এ বিভাগের জন্ম, এবং যাঁর শিল্পচিন্তা আজও আমাদের নিরন্তর প্রেরণার উৎস।”

এছাড়াও সেলিম আল দীনের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে ঢাকা থিয়েটার, গ্রাম থিয়েটার, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, অফিসার সমিতি, আরশিনগর, স্বপ্নদল থিয়েটার, শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র, পুতুল নাট্য গবেষণা কেন্দ্র, অন্বিতা–সেলিম আল দীন বিদ্যাপীঠ, কাকতাড়ুয়া পাপেট, বুনন থিয়েটার, শহীদ টিটু থিয়েটারসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পী ও কলাকুশলীরা।

পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে পুরাতন কলা ভবনে ‘সেলিম আল দীন ও বাংলা নাট্যের বিঔপনিবেশিক আত্মপরিচয়’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রবন্ধ পাঠ করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. আমিনুল ইসলাম।

আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. ইফসুফ হাসান অর্ক এবং দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ নিজার। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুন অর রশীদ খান।

উল্লেখ্য, নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট ফেনীর সোনাগাজীতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। তাঁর উদ্যোগেই ১৯৮৬ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের যাত্রা শুরু হয় এবং তিনিই ছিলেন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।