জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া মন্তব্যে কর্মজীবী নারীদের অবমাননার অভিযোগের প্রতিবাদে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ছাত্রদল, ছাত্রশক্তি ও বামপন্থী সংগঠনগুলোর ঝাড়ু মিছিল।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জমায়েত হয়ে মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বটতলায় এসে শেষ হয়।
এসময় ছাত্রশক্তি জাবি শাখার সেক্রেটারি নাদিয়া রহমান অন্বেষা বলেন, “নির্বাচনী রাজনীতি ও সামাজিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরেই নারীদের ওপর সহিংসতা, অপমান ও ফ্লাডশেমিং চলেছে। ৫ আগস্টের পর অনলাইন অফলাইন সর্বত্র নারীদের ‘বেশ্যা’ আখ্যা দেওয়ার ধারাবাহিকতার বিরুদ্ধেই আজকের এই প্রতিবাদ। এটাকে শুধু জামায়াত ‘আইডি হ্যাক’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। নারীর প্রতি যেকোনো সহিংসতার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করব।”
জাবি শাখা ছাত্র দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দা অন্যন্যা ফারিয়া বলেন, “নারীদের অপমান, অবমাননাকর ভাষা ও দমন করার যে প্রবণতা প্রকাশ পেয়েছে আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। লক্ষ লক্ষ নারী পরিবার ও দেশের জন্য পরিশ্রম করেন। তাদের কুক্ষিগত করার কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না। নারী-পুরুষ সবাই একসাথে এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। যারা প্রতিনিধিত্বের দাবি করে তাদের নীরবতা ও হুমকিমূলক বক্তব্য নারীর মর্যাদাকে আরও ক্ষুণ্ন করেছে। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, এই অপমানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলবে।”
জাবি শাখা ছাত্রফ্রন্টের সংগঠক সোহাগি সামিয়া বলেন, “সারা দেশে নির্বাচন চললেও নারীদের অবমাননা করে যারা রাজনীতি করে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র ও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ। দেশের ৫১ শতাংশ নারীকে অপমান করে কেউ কীভাবে ভোট চাইতে পারে, এটা স্পষ্টভাবে আচরণবিধির লঙ্ঘন। দেড় বছরে নারীর বিরুদ্ধে অবমাননা ও সহিংসতার ঘটনায় কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। নারীর মর্যাদার প্রশ্নে আমরা কখনোই নীরব থাকব না।”
উল্লেখ্য, এরআগে গতকাল জামায়াত ইসলামের আমীর ডা.শফিকুর রহমানের একাউন্ট থেকে নারীদের সম্পর্কে একটি পোস্ট দেন। পরবর্তীতে দলটির প্রচার বিভাগ থেকে জানানো হয়, তার এক্স (টুইটার) একাউন্টটি হ্যাক হয়েছে।



















