ঢাকা ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে নতুন ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক Logo বৈদ্যুতিক ত্রুটি ঘিরে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ ছাত্রী  Logo রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া নিয়ে পাবিপ্রবিতে সিনিয়রদের বিরুদ্ধে জুনিয়রদের মারধরের অভিযোগ Logo ফুটপাত ফিরে পেয়ে নগরজীবনে স্বস্তির ছোঁয়া, তবে চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে  Logo ৪ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণে মিললো সমাধান, ববি শিক্ষার্থীদের অবরোধ প্রত্যাহার Logo জাবিতে পঞ্চগড় জেলা ছাত্রকল্যাণ সংঘের সভাপতি হাসান, সম্পাদক কাফী Logo কুবির বিজয়-২৪ হলকে মাদকমুক্ত করতে উপাচার্য ও প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি Logo রাবিতে ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার মনোজ কুমার Logo বাঁধন, জবি ইউনিটের সাংগঠনিক কর্মশালা ও নবীনবরণ অনুষ্ঠিত Logo দপদপিয়া সেতুতে আবারও দুর্ঘটনা: একদিনে দুই ঘটনায় আহত ৩ ববি শিক্ষার্থী

কুবিতে ফ্যাক্টচেকিং ও অপতথ্য যাচাই বিষয়ক কর্মশালা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ফ্যাক্টচেকিং, ডিসইনফরমেশন ও মিসইনফরমেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিটিশ কাউন্সিল, ইউল্যাব (ULAB) এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সোমবার (২ তারিখ) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান। এতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের ব্যাচ প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে ফ্যাক্টচেকিংয়ের গুরুত্ব, ভুয়া তথ্য শনাক্ত করার কৌশল, ডিসইনফরমেশন ও মিসইনফরমেশনের সামাজিক প্রভাব এবং দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা রহমান সম্পা বলেন, ‘আজ আমরা ডিজিটাল সিটিজেনশিপ বিষয়ক একটি কর্মশালার আয়োজন করেছি। এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের মধ্যে ডিজিটাল লিটারেসি বাড়ানো, ভুল তথ্য ও অপতথ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং ফ্যাক্টচেকিং টুলসের সঙ্গে পরিচিত করানো।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিশেষভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রেশার্সদের নিয়ে এই কর্মশালাটি আয়োজন করেছি, যেন তারা শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে। এই কর্মশালার মাধ্যমে আমরা অংশগ্রহণকারীদের ফ্যাক্টচেকিংয়ের মৌলিক ধারণা, নির্ভরযোগ্য উৎস চিহ্নিত করা এবং মিডিয়ায় দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের বিশ্বাস, আজকের ফ্রেশার্সরাই আগামী দিনের মতামতনেতা হবে। তাই এখন থেকেই যদি তারা সচেতন হয়, তাহলে একটি সুস্থ ও তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করি। সেগুলো না মানলে জেল-জরিমানার মতো শাস্তি হয়। কিন্তু অনলাইন স্পেসে আমরা এসব বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দিই না। ডিজিটাল স্পেসেও নির্দিষ্ট এটিকেট আছে—কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়। বর্তমান সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই কর্মশালার মাধ্যমে আমরা মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন কী, তা বুঝতে পারব এবং কোন তথ্য কীভাবে যাচাই করা হয় সে বিষয়েও জানতে পারব। এসব মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের বিরুদ্ধে আমাদের রেজিলিয়েন্স তৈরি করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আজকের এই সেমিনার।’

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘এই উদ্যোগটিকে আমি সাধুবাদ জানাই। সময়োপযোগী একটি বিষয় এখানে তুলে ধরা হয়েছে। কারণ পৃথিবী স্মার্ট হলে চলবে না, আমাকেও স্মার্ট হতে হবে। পৃথিবীর সঙ্গে কানেক্টেড থেকে আমি যদি একটি মিসইনফরমেশন আমার ফেসবুকে শেয়ার করি, তাহলে মানুষ আমার সচেতনতার মান সেভাবেই মূল্যায়ন করবে।’

জনপ্রিয়

বাকৃবির মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদে নতুন ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক

কুবিতে ফ্যাক্টচেকিং ও অপতথ্য যাচাই বিষয়ক কর্মশালা

প্রকাশিত ০৬:৩৫:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ফ্যাক্টচেকিং, ডিসইনফরমেশন ও মিসইনফরমেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রিটিশ কাউন্সিল, ইউল্যাব (ULAB) এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সোমবার (২ তারিখ) সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের কনফারেন্স রুমে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন এবং গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান। এতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিভাগের ব্যাচ প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

সেমিনারে ফ্যাক্টচেকিংয়ের গুরুত্ব, ভুয়া তথ্য শনাক্ত করার কৌশল, ডিসইনফরমেশন ও মিসইনফরমেশনের সামাজিক প্রভাব এবং দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা বলেন, বর্তমান ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে এ ধরনের কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা রহমান সম্পা বলেন, ‘আজ আমরা ডিজিটাল সিটিজেনশিপ বিষয়ক একটি কর্মশালার আয়োজন করেছি। এই কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের মধ্যে ডিজিটাল লিটারেসি বাড়ানো, ভুল তথ্য ও অপতথ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং ফ্যাক্টচেকিং টুলসের সঙ্গে পরিচিত করানো।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা বিশেষভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্রেশার্সদের নিয়ে এই কর্মশালাটি আয়োজন করেছি, যেন তারা শুরু থেকেই দায়িত্বশীল ডিজিটাল নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে পারে। এই কর্মশালার মাধ্যমে আমরা অংশগ্রহণকারীদের ফ্যাক্টচেকিংয়ের মৌলিক ধারণা, নির্ভরযোগ্য উৎস চিহ্নিত করা এবং মিডিয়ায় দায়িত্বশীল আচরণের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের বিশ্বাস, আজকের ফ্রেশার্সরাই আগামী দিনের মতামতনেতা হবে। তাই এখন থেকেই যদি তারা সচেতন হয়, তাহলে একটি সুস্থ ও তথ্যভিত্তিক ডিজিটাল সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করি। সেগুলো না মানলে জেল-জরিমানার মতো শাস্তি হয়। কিন্তু অনলাইন স্পেসে আমরা এসব বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দিই না। ডিজিটাল স্পেসেও নির্দিষ্ট এটিকেট আছে—কী করা উচিত এবং কী করা উচিত নয়। বর্তমান সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই কর্মশালার মাধ্যমে আমরা মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশন কী, তা বুঝতে পারব এবং কোন তথ্য কীভাবে যাচাই করা হয় সে বিষয়েও জানতে পারব। এসব মিসইনফরমেশন ও ডিসইনফরমেশনের বিরুদ্ধে আমাদের রেজিলিয়েন্স তৈরি করতে হবে। সেই লক্ষ্যেই আজকের এই সেমিনার।’

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘এই উদ্যোগটিকে আমি সাধুবাদ জানাই। সময়োপযোগী একটি বিষয় এখানে তুলে ধরা হয়েছে। কারণ পৃথিবী স্মার্ট হলে চলবে না, আমাকেও স্মার্ট হতে হবে। পৃথিবীর সঙ্গে কানেক্টেড থেকে আমি যদি একটি মিসইনফরমেশন আমার ফেসবুকে শেয়ার করি, তাহলে মানুষ আমার সচেতনতার মান সেভাবেই মূল্যায়ন করবে।’