ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু Logo দেশ গঠনে আলেম-ওলামাদের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী Logo রুটিনে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির নাম না থাকায় কবি নজরুল কলেজ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বর্জন Logo কবি নজরুল কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত Logo দাম বাড়লো জেট ফুয়েলের Logo রাষ্ট্রপতি পদে জামায়াত জোটের প্রার্থী কর্নেল অলি Logo উত্তরায় ‘গ্রিনিং বাংলাদেশ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ইবিয়ান ক্লাবের বৃক্ষরোপণ Logo জোর করে বশ্যতা স্বীকার করানোর চেষ্টা প্রতিহত করবে ইরান: পেজেশকিয়ান Logo জাকসুর সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসানের পদত্যাগের ঘোষণা Logo বুটেক্সে ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের সাত দফা দাবি

শেষ মুহূর্তের যে ৩ ফ্যাক্টর বদলে দিতে পারে ভোটের ফল

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে একটি গণভোটও (রেফারেন্ডাম) বটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি-কে এককভাবে এগিয়ে রাখা হলেও, শেষ মুহূর্তে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী চমক দেখাতে পারে। ইন্ডিয়া টুডে-র এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এমন তিনটি বিশেষ ফ্যাক্টরের কথা উঠে এসেছে, যা নির্বাচনের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

 ১. দোদুল্যমান বা অনিশ্চিত ভোটারদের ভূমিকা:

বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে একটি বিশাল অংশের ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তারা কাকে ভোট দেবেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৮.৫ শতাংশ ভোটার এখনও অনিশ্চিত। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের প্রথাগত ৩০-৪০ শতাংশ সমর্থক এখন কাকে বেছে নেবেন, সেটিই বড় প্রশ্ন। বিএনপি এবং জামায়াত—উভয় দলই এই বিশাল ভোটব্যাংক ও তরুণ ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া। এই ‘ফেন্স সিটার’ বা দোদুল্যমান ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকবেন, জয় সেদিকেই যাবে।

২. ভোটার উপস্থিতির হার (টার্নআউট):

নির্বাচন কমিশনের মক ভোটিংয়ে দেখা গেছে, সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হওয়ায় ভোট দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি সময় লাগছে। ভোটার উপস্থিতি কম হলে সেটি জামায়াতের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর রিপোর্ট বলছে, যদি ভোটার উপস্থিতি ৬৫-৬৮ শতাংশ হয়, তবে বিএনপি জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু উপস্থিতি কমে ৫৩-৫৮ শতাংশে নামলে ক্যাডার-ভিত্তিক দল হিসেবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে যেতে পারে।

৩. নারী ও বয়স্ক ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে অনীহা:

ধীরগতির ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সংঘাতের আশঙ্কায় নারী ও প্রবীণ ভোটাররা কেন্দ্রবিমুখ হতে পারেন। নারী ভোটারদের মধ্যে ভোটের উৎসাহ গত কয়েক মাসে কমেছে বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে। যদি সহিংসতার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ ঘরে থাকে, তবে ক্যাডার-ভিত্তিক সুশৃঙ্খল দল হিসেবে জামায়াত তাদের নিশ্চিত ভোটগুলো সংগ্রহ করে নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে পারে।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি:

আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখনও ৪২ শতাংশ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা পড়েনি, যা সহিংসতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবুও রাজধানী ঢাকা এখন প্রায় ফাঁকা; ঈদের মতো মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ভোট দেওয়ার জন্য।

শেষ পর্যন্ত কি বিএনপি তাদের রাজপথের লড়াইয়ের ফসল ঘরে তুলতে পারবে, নাকি সুসংগঠিত জামায়াত ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেবে—তার উত্তর মিলবে আগামীকালের ব্যালট যুদ্ধে।

জনপ্রিয়

সৌদি আরবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

শেষ মুহূর্তের যে ৩ ফ্যাক্টর বদলে দিতে পারে ভোটের ফল

প্রকাশিত ০৯:০৫:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক দিন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম দেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে এবারের নির্বাচন কেবল ক্ষমতা দখলের লড়াই নয়, বরং সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে একটি গণভোটও (রেফারেন্ডাম) বটে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি-কে এককভাবে এগিয়ে রাখা হলেও, শেষ মুহূর্তে শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন জামায়াতে ইসলামী চমক দেখাতে পারে। ইন্ডিয়া টুডে-র এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনে এমন তিনটি বিশেষ ফ্যাক্টরের কথা উঠে এসেছে, যা নির্বাচনের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

 ১. দোদুল্যমান বা অনিশ্চিত ভোটারদের ভূমিকা:

বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে একটি বিশাল অংশের ভোটার এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি তারা কাকে ভোট দেবেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অফ গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৮.৫ শতাংশ ভোটার এখনও অনিশ্চিত। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তাদের প্রথাগত ৩০-৪০ শতাংশ সমর্থক এখন কাকে বেছে নেবেন, সেটিই বড় প্রশ্ন। বিএনপি এবং জামায়াত—উভয় দলই এই বিশাল ভোটব্যাংক ও তরুণ ভোটারদের নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া। এই ‘ফেন্স সিটার’ বা দোদুল্যমান ভোটাররা যেদিকে ঝুঁকবেন, জয় সেদিকেই যাবে।

২. ভোটার উপস্থিতির হার (টার্নআউট):

নির্বাচন কমিশনের মক ভোটিংয়ে দেখা গেছে, সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট হওয়ায় ভোট দিতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১০ গুণ বেশি সময় লাগছে। ভোটার উপস্থিতি কম হলে সেটি জামায়াতের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-এর রিপোর্ট বলছে, যদি ভোটার উপস্থিতি ৬৫-৬৮ শতাংশ হয়, তবে বিএনপি জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কিন্তু উপস্থিতি কমে ৫৩-৫৮ শতাংশে নামলে ক্যাডার-ভিত্তিক দল হিসেবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে যেতে পারে।

৩. নারী ও বয়স্ক ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে অনীহা:

ধীরগতির ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া এবং সংঘাতের আশঙ্কায় নারী ও প্রবীণ ভোটাররা কেন্দ্রবিমুখ হতে পারেন। নারী ভোটারদের মধ্যে ভোটের উৎসাহ গত কয়েক মাসে কমেছে বলে বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে। যদি সহিংসতার আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ ঘরে থাকে, তবে ক্যাডার-ভিত্তিক সুশৃঙ্খল দল হিসেবে জামায়াত তাদের নিশ্চিত ভোটগুলো সংগ্রহ করে নির্বাচনী ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে পারে।

উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি:

আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে দেশের প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখনও ৪২ শতাংশ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা পড়েনি, যা সহিংসতার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তবুও রাজধানী ঢাকা এখন প্রায় ফাঁকা; ঈদের মতো মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে ভোট দেওয়ার জন্য।

শেষ পর্যন্ত কি বিএনপি তাদের রাজপথের লড়াইয়ের ফসল ঘরে তুলতে পারবে, নাকি সুসংগঠিত জামায়াত ক্ষমতার সমীকরণ বদলে দেবে—তার উত্তর মিলবে আগামীকালের ব্যালট যুদ্ধে।