ফিরে আসছে রক্তঝরা অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এখন সাজ-সাজ রব। ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কর্মীরা। মূল বেদী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে আলপনা আঁকা– সব মিলিয়ে এক কর্মমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকেই ফুল হাতে জনতার ঢল নামবে শহীদ মিনারে। মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হবেন মাতৃভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদরা
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩ টায় শহীদ মিনার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেদীর আলপনার কাজ শেষ পর্যায়ে । মূল চত্বরের কাজ প্রায় শেষ। তবে রাস্তার আলপনার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধুলোবালি পরিষ্কার করে মূল মিনার ও বেদীকে ধুয়ে নতুন রূপ দেওয়া হয়েছে।
শহীদ মিনারের সামনের রাস্তায় সাদা রঙের নানা আলপনায় ব্যস্ত চিত্র শিল্পীরা।
ইতোমধ্যে মিনারের বেশ কিছু অংশে সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে।
এ কাজে নিয়োজিত কর্মীরা জানান, মিনারের মূল কাঠামোর কাজ শেষ । রং করার কাজ শেষ। মিনারের পেছনে প্রতীকী লাল সূর্যটি স্থাপন করা হয়েছে।
প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী জাকিয়া বলেন, ‘আমরা চারুকলা অনুষদের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে লাইন টানার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আজ রং করার কাজ শেষ হলে প্রস্তুতি শেষ সম্পন্ন হবে। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করছি আশাকরি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো আয়োজনটি সুন্দরভাবে শেষ করা যায়।’একই অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। চারুকলা অনুষদের শিক্ষকরা এবং শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। আশা করছি আজকে বিকেলের মধ্যেই আমাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ হবে এবং সবকিছু যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’
উল্লেখ্য, শহীদ মিনারে মূল মিনারই নয়, আশপাশের দেওয়ালে বর্ণমালা লিখন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংবলিত গ্রাফিতি তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে ।



















