বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর জ্যোতির্বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা প্রজেক্ট ‘EcoAstroBD’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি অর্জন করেছে। বৈশ্বিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা International Astronomical Union (IAU)-এর উন্নয়ন শাখা Office of Astronomy for Development (IAU-OAD) আয়োজিত ২০২৫ সালের ‘Call for Proposals’-এ নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর তালিকায় স্থান পেয়েছে এই বাংলাদেশি উদ্যোগ। বিশ্বব্যাপী ১৫০টিরও বেশি প্রস্তাবের মধ্য থেকে বাছাই হয়ে প্রকল্পটি মোট ৯,৫০০ ইউরো অনুদান লাভ করেছে।
‘EcoAstroBD: Nurturing Knowledge, Creativity and Environmental Responsibility through Astronomy in Bangladesh’ শীর্ষক এ প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ সামিয়া আক্তার সামি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক গ্রাম থেকে উঠে আসা সদ্য এইচএসসি উত্তীর্ণ এই তরুণী নিজ উদ্যোগে প্রকল্পটির ধারণা তৈরি করেন এবং আন্তর্জাতিক অনুদান অর্জনে সক্ষম হন। ২০২৬ সালে দেশের তিনটি অঞ্চল ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামে ধাপে ধাপে প্রকল্পটির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে।
উদ্যোক্তা ও তার দলের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হাতে-কলমে জ্যোতির্বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ এখনও সীমিত। অনেক স্বচ্ছল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ব্যবহারিক জ্যোতির্বিজ্ঞান শেখার উপকরণ নেই। আর সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য এ সুযোগ প্রায় অনুপস্থিত। এই বাস্তবতায় ইকোঅ্যাস্ট্রোবিডি জ্যোতির্বিজ্ঞানকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষণ-উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাশক্তি ও পরিবেশ-সচেতনতা গড়ে তুলতে কাজ করবে।
প্রকল্পের আওতায় স্বল্পমূল্যের ও পরিবেশবান্ধব জ্যোতির্বিজ্ঞান কিট তৈরি ও বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি আয়োজন করা হবে ইন্টারঅ্যাকটিভ কর্মশালা, সেমিনার ও আকাশ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী ও তাঁদের শিক্ষকরা এতে অংশগ্রহণ করবেন। শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে হাতে-কলমে STEM শিক্ষাদান পদ্ধতি শক্তিশালী করার পরিকল্পনাও রয়েছে। গ্রামীণ, আধা-নগর ও নগর সব স্তরের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো অনুসরণ করবে।
ইকোঅ্যাস্ট্রোবিডির উদ্যোক্তা জানান, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কেবল জ্যোতির্বিজ্ঞান শেখানো নয় বরং শিক্ষার্থীদের পর্যবেক্ষণ, প্রশ্ন করা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সমালোচনামূলক ভাবে ভাবার দক্ষতা গড়ে তোলা। একই সঙ্গে পরিবেশগত দায়িত্ববোধ ও টেকসই উন্নয়নের ধারণাকে বিজ্ঞান শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রকল্পটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৪, ১০ ও ১৬-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রাপ্ত অনুদান দিয়ে পরিবেশবান্ধব এস্ট্রনোমি কিট উন্নয়ন, কর্মশালা বাস্তবায়ন, প্রশিক্ষণ ও আউটরিচ কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সমন্বয় করা হবে। স্থানীয় শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রভাব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শেখ সামিয়া আক্তার সামি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদেরও হাতে-কলমে জ্যোতির্বিজ্ঞান শেখার অধিকার রয়েছে। মহাবিশ্ব সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের পৃথিবীকে আরও ভালোভাবে বুঝতে ও ভালোবাসতে শিখি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা শিক্ষাগত বৈষম্য কমাতে এবং বিজ্ঞানমনস্ক, দায়িত্বশীল প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি আরো বলেন, “আমাদের টিম বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের সদস্যদের নিয়ে গঠিত। এখানে কেউ স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী, কেউ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের। এই আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয় আমাদের দৃঢ় বিশ্বাসকে প্রতিফলিত করে যে জ্যোতির্বিজ্ঞান কেবল বিজ্ঞান নয়; এটি সমাজ, টেকসই উন্নয়ন এবং মানব কৌতূহলের সাথে গভীরভাবে সংযুক্ত একটি সেতুবন্ধন।”
সায়েম /রাবি



















