বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে অবশেষে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওইদিন দুপুর ২টায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন
জ্ঞানভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বই এবং বইমেলা সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করছে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি।
আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে বইমেলার সবশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরা হয়।
লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা। বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক সরকার আমিন।
এবার মেলা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে পারবেন না।
আর ছুটির দিন বইমেলা বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।
এবছর মেলায় অংশ নিচ্ছে ৫৪৯ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান।
সেলিম রেজা লিখিত বক্তব্যে বলেন, এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী মোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ৫৪৯টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি। মোট ইউনিট ১,০১৮টি।
তিনি বলেন, গত বছর মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১,০৮৪টি।
মেলা কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় কমেছে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা।
মেলায় লিটল ম্যাগাজিন চত্বর থাকবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চের কাছাকাছি গাছতলায়। সেখানে ৮৭টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শিশুচত্বরে মোট প্রতিষ্ঠান ৬৩টি এবং ইউনিট ১০৭টি।
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেন, “এবারের মেলা সকল সম্ভাবনায় আলোকিত হয়ে প্রাণের বইমেলায় পরিণত হবে বলে আমরা আশা করছি। মেলায় সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করি।
মেলা পেছানোর কারণ:
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে প্রথমে বইমেলা এগিয়ে ডিসেম্বরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলা একাডেমি।
পরে গেল বছর ২৮ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে সেই সিদ্ধান্ত ‘স্থগিত’ করার কথা জানায় আয়োজক প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ২ নভেম্বর বৈঠকে করে বাংলা একাডেমি নির্বাচনের পরপর ফেব্রুয়ারি মাসেই মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়।
তখন জানানো হয়েছিল, নির্বাচনের তারিখ নির্দিষ্ট হওয়ার পরই মেলার তারিখ ঘোষণা করা হবে।
নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর তফসিল ঘোষণা করে ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের ঘোষণা দেয়।
এরপর বাংলা একাডিমি বইমেলা ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে বলে জানায়। কিন্তু প্রকাশকরা সেটি পিছিয়ে ঈদের পরে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এছাড়া ভাষার চেতনাকে ধারণ করা অমর একুশে বইমেলা ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে বলেও ধারণা দিয়েছিলেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা। কিন্ত সেটিও হয়নি।
এর মধ্যে ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরুর ঘোষণা দেয় বাংলা একাডেমি। তবে মেলা সংশ্লিষ্টরা এর পর জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একদিন পিছিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি সময় দিয়েছেন।
সাংস্কৃতিক আয়োজন:
প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত বইমেলার মূল মঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত চলবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রতি শুক্র ও শনিবার মেলায় বেলা ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ‘শিশুপ্রহর’ থাকবে। অমর একুশে উদযাপনের অংশ হিসেবে শিশুকিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকছে।
মেলা কমিটির সদস্য-সচিব সেলিম রেজা বলেন, এবার বইমেলার বিন্যাস গতবারের মতো অক্ষুন্ন রাখা হয়েছে। তবে কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আর রোজার মাস উপলক্ষ্যে সোহরাওয়ানী উদ্যান অংশে মেলায় আসা মুসল্লিদের জন্য সুরা তারাবি নামাজের ব্যবস্থা থাকবে।
এছাড়া খাবারের স্টলগুলো এবারও থাকছে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে।
বইমেলায় বাংলা একাডেমি এবং মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ তাদের নির্ধারিত কমিশনে বই বিক্রয় করবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে।
বইমেলার প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।
নিরাপত্তার জন্য মেলায় ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বইমেলা পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে।
বইমেলায় পুরস্কার:
বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগতমান বিচারে সেরা বইয়ের জন্য প্রকাশককে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ২০২৫ সালের বইমেলায় প্রকাশিত বইয়ের মধ্য থেকে শৈল্পিক বিচারে সেরা বই প্রকাশের জন্য ৩টি প্রতিষ্ঠানকে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ দেওয়া হবে।
এছাড়া ২০২৫ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণগত মান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থের জন্য ১টি প্রতিষ্ঠানকে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’ এবং এ-বছরের মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মধ্য থেকে। স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ বিবেচিত প্রতিষ্ঠানকে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে।
এবারের বইমেলায় প্রবর্তন হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ শিরোনামে একটি নতুন পুরষ্কার।
মেলায় নতুন অংশগ্রহণকারী (যে সব প্রতিষ্ঠান নতুন প্রকাশক হিসেবে এবারই প্রথম/২০২৪ বা ২০২৫ সালে মেলায় প্রথম অংশগ্রহণ করছে) তাদের মধ্য থেকে ‘গুণগতমান বিচার’-এ সর্বাধিক সংখ্যক বইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’ (১ম, ২য়, ৩য়) প্রদান করা হবে।
অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর ব্যবস্থাপনা সহযোগী হিসেবে থাকছে বর্তমান বাংলা লিমিটেড।



















