আষাঢ়-শ্রাবণের রিমঝিম বৃষ্টি যেমন মনে দোলা দেয়, তেমনি বর্ষার দিনে বিয়ের সানাই বাজলে কনেদের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজও পড়ে। বৃষ্টির স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতা আর প্যাচপ্যাচে কাদার ভয় সব মিলিয়ে বিয়ের সাজ নষ্ট হওয়ার একটা বড় ঝুঁকি থাকে।

তবে একটু সচেতন হয়ে সঠিক প্রসাধন ও পোশাক বেছে নিলে বর্ষার বিয়েতেও আপনি হয়ে উঠতে পারেন অনন্যা। বৃষ্টির দিনের বিয়ের সাজ কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়েই আজকের এই ফিচার।

১. মেকআপ হোক লাইট ও ওয়াটারপ্রুফ
বর্ষার বিয়ের মেকআপের মূল মন্ত্র হলো ‘লেস ইজ মোর’ এবং অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় এই সময়ে ভারী মেকআপ গলে যাওয়ার বা ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
প্রাইমার মাস্ট: মেকআপের শুরুতে একটি ভালো মানের ম্যাটিফাইং প্রাইমার ব্যবহার করুন। এটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল ও ঘাম নিয়ন্ত্রণ করবে।

হালকা বেস: ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে ওয়াটার-বেসড বা ম্যাট ফিনিশ লাইট ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। এইচডি মেকআপ এই আবহাওয়ার জন্য বেশ উপযোগী।
চোখের সাজ: বৃষ্টির দিনে কাজল বা লাইনার লেপ্টে যাওয়া খুব সাধারণ বিষয়। তাই ওয়াটারপ্রুফ জেল আইলাইনার, মাশকারা এবং স্মাজ-প্রুফ কাজল ব্যবহার করুন।

পাউডার ব্ল্যাশ ও লিপস্টিক: লিকুইড বা ক্রিম ব্ল্যাশের চেয়ে পাউডার ব্ল্যাশ এই আবহাওয়ায় বেশি সময় টেকে। লিপস্টিকের ক্ষেত্রে বেছে নিন লং-লাস্টিং ম্যাট কালার। নুড, মভ, পিচ বা হালকা প্লাম কালার বর্ষার সন্ধ্যায় দারুণ দেখাবে।
২. পোশাকের ফেব্রিক ও রঙ নির্বাচন
বৃষ্টির দিনে বেনারসি বা ভারী জর্জেটের শাড়ি সামলানো বেশ কঠিন হতে পারে। কাদার দাগ লাগলে তা পরিষ্কার করাও ঝামেলার।
ফেব্রিক: বিয়ে বা রিসেপশনের জন্য শিফন, ক্রেপ, জর্জেট বা সিল্কের মতো হালকা ও আরামদায়ক ফেব্রিক বেছে নিন। এগুলো ভিজলেও দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং সহজে নষ্ট হয় না।

রঙের ছটা: বর্ষার দিনে আকাশ সাধারণত মেঘলা বা ধূসর থাকে। তাই কনের পোশাকে উজ্জ্বল রঙের ব্যবহার চারপাশটা প্রফুল্ল করে তুলবে। লাল, মেরুন বা গোলাপির পাশাপাশি পেস্টেল শেড, মিন্ট গ্রিন, ফিরোজা বা লেমন ইয়োলো রঙের পোশাক বেছে নিতে পারেন।
ঝুল ও ঘের: লেহেঙ্গা বা শাড়ি যা-ই পরুন না কেন, তার ঝুল যেন মেঝে স্পর্শ না করে। সামান্য উঁচুতে ট্রিম করে নিলে কাদা ও পানি থেকে বাঁচা যাবে।

৩. চুলের সাজে থাকুক স্বস্তি
খোলা চুলে মেঘলা দিনের আর্দ্রতায় ‘ফ্রিজি’ বা উসকোখুসকো হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। তাই চুল ছেড়ে না রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
খোঁপা বা বিনুনি: জমকালো কোনো মেসি বান, ফ্রেঞ্চ ব্রেইড বা ফুল দিয়ে সাজানো ট্র্যাডিশনাল খোঁপা করতে পারেন। এতে চুল সামলানো সহজ হবে এবং দেখতেও অভিজাত লাগবে।
তাজা ফুলের ছোঁয়া: চুলে কৃত্রিম ফুল বা অর্নামেন্টসের বদলে তাজা জুঁই, বেলি, রজনীগন্ধা বা গোলাপের মালা জড়াতে পারেন। বর্ষার স্নিগ্ধতার সাথে তাজা ফুলের সুবাস দারুণ মানিয়ে যায়।

৪. গহনা ও জুতো
গহনা: অতিরিক্ত ভারী ধাতুর গহনা আর্দ্রতায় ত্বকে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। তাই হালকা ও আধুনিক ডিজাইনের কুন্দন, মুক্তো বা ফ্লোরাল জুয়েলারি বেছে নিতে পারেন।
জুতো: হাই হিল এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ ভেজা ও পিচ্ছিল মেঝেতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। এর বদলে আরামদায়ক ওয়েজেস, জুতি বা কারুকার্য করা ফ্ল্যাট জুতো পরুন, যা আপনাকে আত্মবিশ্বাসের সাথে হাঁটতে সাহায্য করবে।

ঝটপট কিছু টিপস:
বিয়ের ভেন্যুতে যাওয়ার সময় সাথে বড় ও সুন্দর একটি ছাতা রাখতে ভুলবেন না।
ব্যাগে সবসময় ব্লটিং পেপার রাখুন, যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল চটজলদি শুষে নেবে।
মেকআপ শেষ করার পর অবশ্যই একটি ভালো মানের ‘ম্যাট ফিনিশ’ সেটিং স্প্রে ব্যবহার করুন।
বৃষ্টির দিনে প্রকৃতির মাঝে যে একটা স্নিগ্ধতা থাকে, আপনার সাজেও যেন সেই স্নিগ্ধতা আর স্বস্তি ফুটে ওঠে। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে বৃষ্টির রিমঝিম শব্দ আর আপনার বিয়ের আনন্দ দুই মিলে তৈরি হবে এক জাদুকরী মুহূর্ত।



































