ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে জিয়া উদ্যানে কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করলেন ছাত্রদল নেতা মিনার Logo খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের দোয়া ও মিলাদ মাহফিল Logo তীব্র লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটে বিপাকে কুবির শিক্ষার্থীরা Logo যে আমলে বান্দার গুনাহ ঝরে যায় Logo ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে দলীয় সুপারিশে ছাত্রদল নেতা ও তার প্রেমিকার নাম Logo বাণিজ্যিক পোল্ট্রি খামারে বাড়ছে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া Logo লোডশেডিং সমাধানে অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই: বিদ্যুৎমন্ত্রী Logo নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যানি, সালাহউদ্দিন আহমেদ এলজিআরডি মন্ত্রী! Logo এসএসসি পাসেই বেসরকারি সংস্থায় চাকরি Logo ছয় মাস পর্যটক যাতায়াত বন্ধ: নতুন প্রাণ পেলো সেন্ট মার্টিন

‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিলড’: ৪৫ বছর পর ধরা পড়লেন জিয়া হত্যার সেই মেজর মোজাফফর

হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ও পলাতক সেনাকর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবি পুলিশ জানায়, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটেছিল সেই হত্যাকাণ্ড

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই বর্বরোচিত সামরিক অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম শীর্ষ পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী।

জিয়াকে প্রথম শনাক্ত ও গুলি করেছিলেন মোজাফফর

মামলার নথি ও তদন্ত বিবরণী অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সার্কিট হাউসের কক্ষে ঢুকে মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে বার্তা দেন: ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিলড’ (প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হয়েছে)।

৪৫ বছরের পলাতক জীবন ও পূর্ববর্তী বিচার

হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সেনাসদর ও সরকারের অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে অভ্যুত্থানের মূল হোতা মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। বিচার প্রক্রিয়ার পর আদালতে ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তবে রায় ঘোষণার আগেই মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ সুকৌশলে দেশ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে ছদ্মনামে ও কঠোর গোপনীয়তায় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে ডিবি পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই ফাঁসির আসামি। এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসের অন্যতম একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে জিয়া উদ্যানে কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণ করলেন ছাত্রদল নেতা মিনার

‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিলড’: ৪৫ বছর পর ধরা পড়লেন জিয়া হত্যার সেই মেজর মোজাফফর

প্রকাশিত ০৮:২৩:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৪৫ বছর পর সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ও পলাতক সেনাকর্মকর্তা মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) মধ্যরাতে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবি পুলিশ জানায়, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটেছিল সেই হত্যাকাণ্ড

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই বর্বরোচিত সামরিক অভ্যুত্থান ও হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম শীর্ষ পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী।

জিয়াকে প্রথম শনাক্ত ও গুলি করেছিলেন মোজাফফর

মামলার নথি ও তদন্ত বিবরণী অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সার্কিট হাউসের কক্ষে ঢুকে মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালান। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত করার পরপরই মোজাফফর চট্টগ্রাম সেনানিবাসের ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোনে বার্তা দেন: ‘দ্য প্রেসিডেন্ট হ্যাজ বিন কিলড’ (প্রেসিডেন্টকে হত্যা করা হয়েছে)।

৪৫ বছরের পলাতক জীবন ও পূর্ববর্তী বিচার

হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সেনাসদর ও সরকারের অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে অভ্যুত্থানের মূল হোতা মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। বিচার প্রক্রিয়ার পর আদালতে ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তবে রায় ঘোষণার আগেই মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস এম খালেদ সুকৌশলে দেশ ও প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।

দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে ছদ্মনামে ও কঠোর গোপনীয়তায় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে ডিবি পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এই ফাঁসির আসামি। এই গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসের অন্যতম একটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত সমাপ্তির দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।