রাজধানীর আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন এলাকায় দালাল বিরোধী অভিযানে ১৪ দালালকে
আটক করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-২)। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল ৯.৩০টা থেকে ১০.৩০টা পর্যন্ত র্যাব-২ এর আভিযানিক দল নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট শাহ মোঃ যুবায়ের এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করে পাসপোর্ট দালাল চক্রের ১৪ জনকে আটক করে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের মধ্যে ৬ জনকে স্বীকারোক্তিতে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন।
অভিযান শেষে র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জানান, আটককৃতদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে বাকি সদস্যদের বিষয়ে এখনো নিবিড় তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
আগারগাও পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক মোঃ ইসমাইল হোসেন গ্রাহকদের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার ক্ষেত্রে দালালের সাহায্য না নিয়ে নিজেদের তত্বাবধানে সরাসরি ফরম পূরণ এবং ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া উচিত। সেবাগ্রহীতারা সচেতন হলে দালাল চক্রের কার্যক্রম পুরোপুরি নির্মূল করা সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।
র্যাব-২ এর উপ-পরিচালক (মিডিয়া) মেজর এম মুবীন রহমান বলেন, দালাল চক্র আগারগাঁও পাসপোর্ট অফিসের সামনে এবং পার্শ্ববর্তী ব্যাংকে টাকা জমা দেয়া প্রার্থীদের পাসপোর্ট ফরম পূরণ, ফরম সত্যায়ন, কাগজপত্র ঘাটতি, ভুল বা ভুয়া কাগজপত্র, এমনকি টাকার বিনিময়ে ভেরিফিকেশন ছাড়া অতি দ্রুত পাসপোর্ট তৈরির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে। পাসপোর্ট প্রার্থীগণ তাদের প্রতারণায় রাজি না হওয়া পর্যন্ত নানাভাবে বিরক্ত করতে থাকে। অল্প সময়ে পাসপোর্ট করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।
তিনি আরও বলেন এসব ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রচারিত হওয়ার পরও চক্রটি গণউপদ্রব চালাতে থাকে। উক্ত বিজ্ঞপ্তিটি নোটিশ বোর্ড ছাড়াও মাইকিং করে দালালদের উপদ্রব সৃষ্টিকারীদের সতর্ক করা হলেও তাদের তৎপরতা বন্ধ করে নি।
তাদের মধ্যে ৬ জনকে স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে মোট পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
এম মুবীন রহমান তাপস বলেন, ভবিষ্যতে র্যাব-২ এ ধরনের দালাল বিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখবে।
















