বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। তার মধ্যে প্রথম ও অন্যতম ঋতু হচ্ছে গ্রীষ্মকাল।এপ্রিলের মাঝামাঝি তথা বৈশাখ এর শুরুর সাথে গ্রীষ্মকাল শুরু হয়।এপ্রিল এর প্রথম দিকেই গাছের ডালে ডালে ফুটে ওঠে কৃষ্ণচূড়া। যখন গাছের ডালে থোকায় থোকায় কৃষ্ণচূড়া ফুল ফুটে তখন মনে করা হয় কৃষ্ণচূড়ার আবেশে গ্রীষ্মের আগমন ঘটছে।এক নতুন ঋতুর বার্তা নিয়ে আসে এই ফুল।যার সৌন্দর্যে মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে পরিবেশ। কৃষ্ণচূড়া ভরা পরিবেশ মানুষকে মানসিকভাবে শান্ত, সতেজ আর সুখী করে তোলে।
কৃষ্ণচূড়া ফুল আমাদের দেশের গ্রীষ্মের এক অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক। গ্রীষ্ম এলেই গাছে লাল-কমলা রঙের ফুলে ভরে ওঠে, যা চারপাশের পরিবেশকে করে তোলে অত্যন্ত মনোরম ও আকর্ষণীয়। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন গাছের ডালে আগুন জ্বলছে কিন্তু সেই “আগুন” চোখে আনে প্রশান্তি ও আনন্দ।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লাল-কমলা রঙে সেজে উঠেছে রাস্তার ধারের গাছগুলো।যা নগর জীবনে এনে দিয়েছে এক ভিন্ন প্রশান্তির ছোঁয়া।
প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও কৃষ্ণচূড়ার ছায়াময় পরিবেশ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে। ব্যস্ত নগর জীবনের ক্লান্ত পথচারীরা এই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে নিচ্ছেন স্বল্প সময়ের বিশ্রাম। অনেকেই বলছেন, “এই ফুলগুলো দেখলেই মন ভাল হয়ে যায়, গরমটাও যেন একটু সহনীয় মনে হয়।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন সব গাছ শহরের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষ্ণচূড়ার ছায়া যেমন তাপমাত্রা কিছুটা কমাতে সাহায্য করে তেমনি এর উজ্জ্বল রঙ মানুষের মনে সৃষ্টি করে ইতিবাচক অনুভূতি ও মানসিক প্রশান্তি।তরুণদের কাছেও কৃষ্ণচূড়া একটি আবেগের নাম। অনেকের কাছে এটি বিদায়, স্মৃতি ও নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবে ধরা দেয়।তাছাড়া কৃষ্ণচূড়া অনেকের জীবনের স্মৃতি ও আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে। স্কুল-কলেজ জীবনের শেষ মুহূর্ত, বন্ধুত্ব ও বিদায়ের স্মৃতি এই ফুলকে আরও অর্থবহ করে তুলে। তাই এটি শুধু একটি ফুল নয় বরং মানুষের মনে ভালোবাসা,স্মৃতি ও প্রশান্তির প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।
বলা যায়, কৃষ্ণচূড়া ফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না বরং মানুষের মনেও আনন্দ ও প্রশান্তি এনে দেয়।



















