ঢাকা ০১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ওসির সঙ্গে রুমিনের বাদানুবাদ, বললেন ‘আপনি বিরাট কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছিলেন’ Logo পাঁচ বছর পর মায়ের সঙ্গে প্রথম কথা বললেন অং সান সু চির ছেলে Logo বাল্যবিয়েতে কমে মেয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ Logo ব্যাটিং স্বর্গে ৮৫৯ রানের ওয়ানডে ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার ইতিহাস Logo ‘দ্য ডার্টি পিকচার ২’ তে কাজ করতে চান বিদ্যা বালান Logo দাম্মামগামী ৩ দিনের ফ্লাইট স্থগিত, রিয়াদ রুট বন্ধ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত Logo রেয়ালকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে তেবাসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ স্পেন সরকারের Logo শুধু টাইগার নয়, নজরদারিতে ছিলেন সালমান আমির ও রণবীর Logo প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার নিতে স্পেনে মেসি Logo ভালো চিত্রনাট্যের জন্য শিল্পীর অপেক্ষার শেষ থাকে না: ‘আড্ডানামায়’ সানজিদা প্রীতি

জাবিতে ‘কাল রাত্রি’ পালন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণ

জুলাই-২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘কাল রাত্রি’ পালন করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

রাত ১১টায় জুলাই আন্দোলন নিয়ে নির্মিত একটি স্মৃতি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। রাত ১২টায় প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় এক মিনিটের জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। পরে রাত ১২টা ১ মিনিটে উপাচার্য বাসভবনের সামনে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে শহিদদের স্মরণ করা হয় এবং রাত ১২টা ১০ মিনিটে জুলাই-২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জুলাই-২০২৪ গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব। অনুষ্ঠানে জুলাই-২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য দেন। বক্তারা ১৫ জুলাইয়ের সেই ভয়াল রাতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সমাপনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ১৫ জুলাইয়ের ঘটনায় আহতদের অনেকেই এখনো গুলির ক্ষত বহন করছেন। তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি বলেন, ওই রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে আপিলে কয়েকজন দায়মুক্তি পেলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সিন্ডিকেটে তোলা হতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লক্ষ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পান, আবার প্রকৃত অপরাধীও যেন দায়মুক্তি না পায়। বিশ্ববিদ্যালয় পেশাদার তদন্ত সংস্থা নয়; তাই তদন্তে কোনো সীমাবদ্ধতা থেকে থাকলে তা পুনরায় যাচাই করার দাবি অযৌক্তিক নয়।

উপাচার্য আরও বলেন, সিন্ডিকেট প্রয়োজন মনে করলে অভিযোগগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা হলো এমন একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে বিচারের নামে কোনো জুলুম হবে না এবং অপরাধীরও দায়মুক্তি থাকবে না।”

এ সময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয়

ওসির সঙ্গে রুমিনের বাদানুবাদ, বললেন ‘আপনি বিরাট কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ছিলেন’

জাবিতে ‘কাল রাত্রি’ পালন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণ

প্রকাশিত ০৯:৩৬:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

জুলাই-২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধারণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘কাল রাত্রি’ পালন করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়।

রাত ১১টায় জুলাই আন্দোলন নিয়ে নির্মিত একটি স্মৃতি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। রাত ১২টায় প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় এক মিনিটের জন্য পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। পরে রাত ১২টা ১ মিনিটে উপাচার্য বাসভবনের সামনে মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে শহিদদের স্মরণ করা হয় এবং রাত ১২টা ১০ মিনিটে জুলাই-২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন জুলাই-২০২৪ গণঅভ্যুত্থান উদযাপন কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব। অনুষ্ঠানে জুলাই-২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সমন্বয়ক, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা বক্তব্য দেন। বক্তারা ১৫ জুলাইয়ের সেই ভয়াল রাতের স্মৃতিচারণ করেন এবং গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

সমাপনী বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ১৫ জুলাইয়ের ঘটনায় আহতদের অনেকেই এখনো গুলির ক্ষত বহন করছেন। তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি বলেন, ওই রাতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে আপিলে কয়েকজন দায়মুক্তি পেলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য সিন্ডিকেটে তোলা হতে পারে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লক্ষ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন শাস্তি না পান, আবার প্রকৃত অপরাধীও যেন দায়মুক্তি না পায়। বিশ্ববিদ্যালয় পেশাদার তদন্ত সংস্থা নয়; তাই তদন্তে কোনো সীমাবদ্ধতা থেকে থাকলে তা পুনরায় যাচাই করার দাবি অযৌক্তিক নয়।

উপাচার্য আরও বলেন, সিন্ডিকেট প্রয়োজন মনে করলে অভিযোগগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করা হবে। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত চেতনা হলো এমন একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে বিচারের নামে কোনো জুলুম হবে না এবং অপরাধীরও দায়মুক্তি থাকবে না।”

এ সময় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এ আন্দোলনের ইতিহাস ও চেতনা তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনা সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।