ঢাকা ০৮:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo রোমানদের ১৬০০ বছরের পুরনো কাচশিল্পের রহস্য উদ্ধার Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না: নাহিদ ইসলাম Logo ইবিতে ‘ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশন’ কর্মশালা: গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির ডাটাবেজ তৈরির সিদ্ধান্ত Logo হালকা রংয়ের ঘরে আভিজাত্যের ছোঁয়া দেওয়ার কৌশল Logo দেশ গঠনে প্রতিটি প্রবাসীকে ‘অ্যাম্বাসেডর’ হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী Logo মালয়েশিয়ায় হুন্ডি চক্রের সন্ধান, ৮ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার Logo জাতীয় সাঁতারে প্রথম দিনে ৬ রেকর্ড Logo আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসার বোর্ড পরীক্ষা একই প্রশ্নে হবে: শিক্ষামন্ত্রী Logo স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি Logo নির্বাচনের পরও অনিশ্চয়তা, ফের ভোটের পথে ইসরাইল?

অপরাধ নিয়ে কথা বলতেন টিভিতে, নিজেই পেলেন ফাঁসির সাজা!

টেলিভিশনের পর্দায় অপরাধ ও নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন যিনি, শেষ পর্যন্ত নিজেই এক গুরুতর অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। মিশরের জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক সারাহ খলিফাকে মাদক উৎপাদন ও পাচারের একটি বড় মামলায় এই কঠোর সাজা দিয়েছেন দেশটির আদালত। শুধু তিনিই একা নন, এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আরও ১১ জন অভিযুক্তকেও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মিশরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিশরে ‘মিশন ইমপসিবল’ নামক একটি অপরাধবিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিনি এবং তার সহযোগীরা মিলে একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্র গড়ে তুলেছিলেন, যার মূল কাজ ছিল বিদেশ থেকে নিষিদ্ধ উপাদান আমদানি করে সিনথেটিক মাদক তৈরি ও পাচার করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে প্রায় সাড়ে সাত শ কেজি মাদক এবং মাদক তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এছাড়া রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান মিলেছিল, যেগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মাদক তৈরির গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং সেখানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও পাওয়া যায়।

মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে দেশটির গ্র্যান্ড মুফতির ধর্মীয় মতামত নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা এই মামলার ক্ষেত্রেও যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেও, আইন অনুযায়ী দণ্ডিত আসামিদের উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ বহাল রয়েছে। মাদক পাচারের পাশাপাশি সারাহ খলিফা এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আলাদাভাবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের খবরাখবর অনুযায়ী, উপস্থাপনার পাশাপাশি সারাহ খলিফার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক পরিচিতিও রয়েছে এবং তিনি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক পরিচালনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মিশরের আইন অনুযায়ী পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং বড় ধরনের মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অপরাধ দমনের নামে এ ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

জনপ্রিয়

রোমানদের ১৬০০ বছরের পুরনো কাচশিল্পের রহস্য উদ্ধার

অপরাধ নিয়ে কথা বলতেন টিভিতে, নিজেই পেলেন ফাঁসির সাজা!

প্রকাশিত ০১:২০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টেলিভিশনের পর্দায় অপরাধ ও নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন যিনি, শেষ পর্যন্ত নিজেই এক গুরুতর অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। মিশরের জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক সারাহ খলিফাকে মাদক উৎপাদন ও পাচারের একটি বড় মামলায় এই কঠোর সাজা দিয়েছেন দেশটির আদালত। শুধু তিনিই একা নন, এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আরও ১১ জন অভিযুক্তকেও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মিশরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিশরে ‘মিশন ইমপসিবল’ নামক একটি অপরাধবিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিনি এবং তার সহযোগীরা মিলে একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্র গড়ে তুলেছিলেন, যার মূল কাজ ছিল বিদেশ থেকে নিষিদ্ধ উপাদান আমদানি করে সিনথেটিক মাদক তৈরি ও পাচার করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে প্রায় সাড়ে সাত শ কেজি মাদক এবং মাদক তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এছাড়া রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান মিলেছিল, যেগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মাদক তৈরির গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং সেখানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও পাওয়া যায়।

মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে দেশটির গ্র্যান্ড মুফতির ধর্মীয় মতামত নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা এই মামলার ক্ষেত্রেও যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেও, আইন অনুযায়ী দণ্ডিত আসামিদের উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ বহাল রয়েছে। মাদক পাচারের পাশাপাশি সারাহ খলিফা এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আলাদাভাবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের খবরাখবর অনুযায়ী, উপস্থাপনার পাশাপাশি সারাহ খলিফার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক পরিচিতিও রয়েছে এবং তিনি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক পরিচালনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মিশরের আইন অনুযায়ী পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং বড় ধরনের মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অপরাধ দমনের নামে এ ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।