ঢাকা ০২:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মৃত্যুর ৩০ বছর পরেও নায়ক সালমান শাহকে ঘিরে আগ্রহ ও কৌতুহল কেন? Logo বাসে ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইলের কোমরে টাকা দেখেই হত্যার পরিকল্পনা Logo অপরাধ নিয়ে কথা বলতেন টিভিতে, নিজেই পেলেন ফাঁসির সাজা! Logo মোজা ধোয়ার পরও দুর্গন্ধ থাকছে, যা করবেন Logo গোপালগঞ্জে যাত্রীবাহী বাস খাদে, নিহত ৩ Logo দিনের আলোতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল, পুলিশ জানে না কিছুই Logo ফ্রেশার চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ, ২০ বছর হলেই আবেদন Logo দিনের আলোতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল, জানে না পুলিশ Logo ইউক্রেন ইস্যুতে ট্রাম্প প্রতিনিধিদের সঙ্গে পুতিনের ‘রুদ্ধদ্বার’ বৈঠক Logo টিভি দেখার সময় জানালা দিয়ে গুলি, গৃহবধূ গুলিবিদ্ধ

অপরাধ নিয়ে কথা বলতেন টিভিতে, নিজেই পেলেন ফাঁসির সাজা!

টেলিভিশনের পর্দায় অপরাধ ও নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন যিনি, শেষ পর্যন্ত নিজেই এক গুরুতর অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। মিশরের জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক সারাহ খলিফাকে মাদক উৎপাদন ও পাচারের একটি বড় মামলায় এই কঠোর সাজা দিয়েছেন দেশটির আদালত। শুধু তিনিই একা নন, এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আরও ১১ জন অভিযুক্তকেও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মিশরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিশরে ‘মিশন ইমপসিবল’ নামক একটি অপরাধবিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিনি এবং তার সহযোগীরা মিলে একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্র গড়ে তুলেছিলেন, যার মূল কাজ ছিল বিদেশ থেকে নিষিদ্ধ উপাদান আমদানি করে সিনথেটিক মাদক তৈরি ও পাচার করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে প্রায় সাড়ে সাত শ কেজি মাদক এবং মাদক তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এছাড়া রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান মিলেছিল, যেগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মাদক তৈরির গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং সেখানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও পাওয়া যায়।

মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে দেশটির গ্র্যান্ড মুফতির ধর্মীয় মতামত নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা এই মামলার ক্ষেত্রেও যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেও, আইন অনুযায়ী দণ্ডিত আসামিদের উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ বহাল রয়েছে। মাদক পাচারের পাশাপাশি সারাহ খলিফা এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আলাদাভাবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের খবরাখবর অনুযায়ী, উপস্থাপনার পাশাপাশি সারাহ খলিফার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক পরিচিতিও রয়েছে এবং তিনি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক পরিচালনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মিশরের আইন অনুযায়ী পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং বড় ধরনের মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অপরাধ দমনের নামে এ ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।

জনপ্রিয়

মৃত্যুর ৩০ বছর পরেও নায়ক সালমান শাহকে ঘিরে আগ্রহ ও কৌতুহল কেন?

অপরাধ নিয়ে কথা বলতেন টিভিতে, নিজেই পেলেন ফাঁসির সাজা!

প্রকাশিত ০১:২০:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টেলিভিশনের পর্দায় অপরাধ ও নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন যিনি, শেষ পর্যন্ত নিজেই এক গুরুতর অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। মিশরের জনপ্রিয় টিভি উপস্থাপক সারাহ খলিফাকে মাদক উৎপাদন ও পাচারের একটি বড় মামলায় এই কঠোর সাজা দিয়েছেন দেশটির আদালত। শুধু তিনিই একা নন, এই চাঞ্চল্যকর মামলায় আরও ১১ জন অভিযুক্তকেও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। মিশরের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

৩৯ বছর বয়সী সারাহ খলিফা মিশরে ‘মিশন ইমপসিবল’ নামক একটি অপরাধবিষয়ক টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করতেন। তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিনি এবং তার সহযোগীরা মিলে একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্র গড়ে তুলেছিলেন, যার মূল কাজ ছিল বিদেশ থেকে নিষিদ্ধ উপাদান আমদানি করে সিনথেটিক মাদক তৈরি ও পাচার করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে প্রায় সাড়ে সাত শ কেজি মাদক এবং মাদক তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল জব্দ করা হয়। এছাড়া রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় দুটি অ্যাপার্টমেন্টের সন্ধান মিলেছিল, যেগুলো অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে মাদক তৈরির গবেষণাগার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং সেখানে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রও পাওয়া যায়।

মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে দেশটির গ্র্যান্ড মুফতির ধর্মীয় মতামত নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, যা এই মামলার ক্ষেত্রেও যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করলেও, আইন অনুযায়ী দণ্ডিত আসামিদের উচ্চ আদালতে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ বহাল রয়েছে। মাদক পাচারের পাশাপাশি সারাহ খলিফা এবং তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আরও একটি পৃথক মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। ওই মামলায় এক তরুণকে অপহরণ এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের আলাদাভাবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের খবরাখবর অনুযায়ী, উপস্থাপনার পাশাপাশি সারাহ খলিফার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক পরিচিতিও রয়েছে এবং তিনি একটি কসমেটিক সার্জারি ক্লিনিক পরিচালনা করার পাশাপাশি বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মিশরের আইন অনুযায়ী পূর্বপরিকল্পিত হত্যা, সন্ত্রাসবাদ এবং বড় ধরনের মাদক পাচারের মতো গুরুতর অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে অপরাধ দমনের নামে এ ধরনের কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা প্রায়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে।