ঢাকা ১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শেষকৃত্য শুরু করেছিল পরিবার, নিখোঁজের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার

নেপালের সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীর তীব্র বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল অসংখ্য মানুষের জনপদ। এর মধ্যে চন্দিকা শ্রেষ্ঠা নামের চৌষট্টি বছর বয়সী এক নারীর পরিবারও সর্বস্ব হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। প্রবল স্রোতের তোড়ে ভোতেকোশি নদীর তীরে অবস্থিত তাদের সাড়ে চারতলা বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেসে যায়। সে সময় বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন চন্দিকা ও তার স্বামী। প্রকৃতির সেই নির্মম গ্রাস থেকে নিজেদের রক্ষা করতে না পেরে তারা পানির স্রোতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বৃদ্ধার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন। টানা আট দিন ধরে নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় চন্দিকাকে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান মেলাতে পারেনি তার স্বজনেরা। চারপাশের পরিবেশ এতটাই প্রতিকূল হয়ে উঠেছিল যে গভীর কাদা, জলাবদ্ধতা এবং পচে যাওয়া মরদেহের তীব্র দুর্গন্ধের কারণে উদ্ধারকর্মীরাও সব জায়গায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে সকল আশা হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন যে চন্দিকা আর বেঁচে নেই।

স্বজনদের এই চরম হতাশার প্রেক্ষাপটে নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কুশ ঘাস দিয়ে একটি প্রতীকী মরদেহ তৈরি করে কাঠমান্ডুর সানো ভারিয়াংয়ে পারিবারিক বাসভবনে চন্দিকার শেষকৃত্যের কার্যক্রম শুরু করা হয়। যখন পুরো পরিবার শোকের আবহে মৃতদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এগারো দিন পর তাকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এলাকা থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দলের অভিযਾਨে নুয়াকোট জেলার একটি বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় চন্দিকাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর দ্রুত তাকে হেলিকপ্টারযোগে সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কাঠমান্ডুর একটি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখায় পরিবারের লোকজন এখনো তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাননি। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন অলৌকিক প্রাপ্তিতে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একে রূপকথার মতো ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন চন্দিকার স্বজনেরা।

জনপ্রিয়

ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, বিমানবন্দর বন্ধ

শেষকৃত্য শুরু করেছিল পরিবার, নিখোঁজের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার

প্রকাশিত ১০:২৪:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালের সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও নদীর তীব্র বন্যায় লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল অসংখ্য মানুষের জনপদ। এর মধ্যে চন্দিকা শ্রেষ্ঠা নামের চৌষট্টি বছর বয়সী এক নারীর পরিবারও সর্বস্ব হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। প্রবল স্রোতের তোড়ে ভোতেকোশি নদীর তীরে অবস্থিত তাদের সাড়ে চারতলা বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেসে যায়। সে সময় বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন চন্দিকা ও তার স্বামী। প্রকৃতির সেই নির্মম গ্রাস থেকে নিজেদের রক্ষা করতে না পেরে তারা পানির স্রোতে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে বৃদ্ধার সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন। টানা আট দিন ধরে নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় চন্দিকাকে খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান মেলাতে পারেনি তার স্বজনেরা। চারপাশের পরিবেশ এতটাই প্রতিকূল হয়ে উঠেছিল যে গভীর কাদা, জলাবদ্ধতা এবং পচে যাওয়া মরদেহের তীব্র দুর্গন্ধের কারণে উদ্ধারকর্মীরাও সব জায়গায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে সকল আশা হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন যে চন্দিকা আর বেঁচে নেই।

স্বজনদের এই চরম হতাশার প্রেক্ষাপটে নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কুশ ঘাস দিয়ে একটি প্রতীকী মরদেহ তৈরি করে কাঠমান্ডুর সানো ভারিয়াংয়ে পারিবারিক বাসভবনে চন্দিকার শেষকৃত্যের কার্যক্রম শুরু করা হয়। যখন পুরো পরিবার শোকের আবহে মৃতদেহের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এগারো দিন পর তাকে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এলাকা থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দলের অভিযਾਨে নুয়াকোট জেলার একটি বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় চন্দিকাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর দ্রুত তাকে হেলিকপ্টারযোগে সেনাবাহিনীর একটি ব্যারাকে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে কাঠমান্ডুর একটি সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তাকে পর্যবেক্ষণে রাখায় পরিবারের লোকজন এখনো তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাননি। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন অলৌকিক প্রাপ্তিতে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে একে রূপকথার মতো ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন চন্দিকার স্বজনেরা।