ঢাকা ১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দিনের আলোতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল, জানে না পুলিশ

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে শরীয়তপুর জেলায় প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ। গত ৬ সেপ্টেম্বর রোববার সকালে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এই ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং দলের কারাবন্দি নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ওই এলাকায় হঠাৎ করে একশর বেশি নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে এই মিছিল বের করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের জেলা শাখার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সরাসরি নেতৃত্বে এই মিছিলটি পরিচালিত হয়। শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান ওরফে ভুলু এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শিকদারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। মিছিল চলাকালে ব্যস্ততম ওই সড়কের পাশে অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। এমনকি মিছিলের কারণে পেছনের দিকে একটি ট্রাক সাময়িকভাবে আটকে থাকতেও ভিডিওতে ধরা পড়ে।

বিক্ষোভের সময় অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের সরকারবিরোধী ও দলীয় স্লোগানে মুখর করে তোলেন চারপাশ। তারা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘চলছে লড়াই চলবে, শেখ হাসিনা লড়বে’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। দিনের আলোতে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তা আতঙ্ক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের নেতাকর্মীরা কীভাবে পুলিশ প্রশাসনের নজরের বাইরে এসে এমন প্রকাশ্যে শোডাউন করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে এমন একটি স্পর্শকাতর মিছিলের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বাধা আসেনি। এমনকি ঘটনার পর পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান যে এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো পূর্বতথ্য ছিল না। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম গণমাধ্যমকে জানান, মিছিলের কোনো পূর্বনির্ধারিত তথ্য তাদের কাছে ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ঘটনাস্থলটি পালং ও নড়িয়া থানার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে মোটরসাইকেলে এসে দ্রুত মিছিলটি শেষ করে চলে যায়। বর্তমানে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

জনপ্রিয়

ফ্রেশার চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দিচ্ছে প্রাণ গ্রুপ, ২০ বছর হলেই আবেদন

দিনের আলোতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল, জানে না পুলিশ

প্রকাশিত ১১:৩৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে শরীয়তপুর জেলায় প্রকাশ্যে বিক্ষোভ মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ। গত ৬ সেপ্টেম্বর রোববার সকালে জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-শরীয়তপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এই ঝটিকা মিছিলের আয়োজন করা হয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন এবং দলের কারাবন্দি নেতাকর্মীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়ে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ওই এলাকায় হঠাৎ করে একশর বেশি নেতাকর্মী একত্রিত হয়ে এই মিছিল বের করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের জেলা শাখার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সরাসরি নেতৃত্বে এই মিছিলটি পরিচালিত হয়। শরীয়তপুর জেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মহসিন মাদবর, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান ওরফে ভুলু এবং সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শিকদারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা মহাসড়কে অবস্থান নেন। মিছিল চলাকালে ব্যস্ততম ওই সড়কের পাশে অটোরিকশা ও মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। এমনকি মিছিলের কারণে পেছনের দিকে একটি ট্রাক সাময়িকভাবে আটকে থাকতেও ভিডিওতে ধরা পড়ে।

বিক্ষোভের সময় অংশগ্রহণকারী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের সরকারবিরোধী ও দলীয় স্লোগানে মুখর করে তোলেন চারপাশ। তারা ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘চলছে লড়াই চলবে, শেখ হাসিনা লড়বে’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়ে সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। দিনের আলোতে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে এই ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালিত হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তা আতঙ্ক ও বিস্ময়ের সৃষ্টি করে। নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের নেতাকর্মীরা কীভাবে পুলিশ প্রশাসনের নজরের বাইরে এসে এমন প্রকাশ্যে শোডাউন করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে দিনের আলোতে প্রকাশ্যে এমন একটি স্পর্শকাতর মিছিলের ঘটনা ঘটলেও স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বাধা আসেনি। এমনকি ঘটনার পর পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান যে এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো পূর্বতথ্য ছিল না। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম গণমাধ্যমকে জানান, মিছিলের কোনো পূর্বনির্ধারিত তথ্য তাদের কাছে ছিল না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ঘটনাস্থলটি পালং ও নড়িয়া থানার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে মোটরসাইকেলে এসে দ্রুত মিছিলটি শেষ করে চলে যায়। বর্তমানে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।