বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে অপসারণ এবং পরবর্তীতে মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বৈধতা নিয়ে দায়ের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পদে মোস্তাকুর রহমানের দায়িত্ব পালনে কোনো আইনি বাধা রইল না বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
এর আগে গত মার্চ মাসে আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। রিট আবেদনে আহসান এইচ মনসুরের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে তাকে গভর্নরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়। একইসঙ্গে এই নিয়োগ ও অপসারণ সংক্রান্ত পৃথক গেজেটের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছিল। উক্ত রিট মামলায় অর্থ বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমানকে বিবাদী করা হয়েছিল।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে দীর্ঘ শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন। শুনানিকালে তিনি গভর্নর পদে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ও আইনি ভিত্তি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তবে উভয় পক্ষের যুক্তি শুনে এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত রিটটি সরাসরি খারিজ করার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকল।
উল্লেখ্য, গত ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ব্যাংক খাতের সংস্কারের জন্য অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর পদে নিয়োগ দিয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৮ সালের আগস্ট পর্যন্ত তার দায়িত্ব পালনের কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপন জারি করে আহসান এইচ মনসুরের চুক্তির অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে এবং মোস্তাকুর রহমানকে নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে।





































