সাভারের আমিনবাজারে রাস্তার ওপর অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক গ্যারেজ মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করায় পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এক উপপরিদর্শককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত আলতাফ হোসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত ছিলেন এবং তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায়। সম্প্রতি রাতে আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় নিজের ছেলের কারখানায় আশ্রয় নেওয়ার পরও তার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এই নৃশংস ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে এবং দোষীদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন একটি সাদা প্রাইভেট কারে করে কয়েকজন ব্যক্তি ওই এলাকায় পৌঁছালে সড়কের ওপর রাখা একটি অটোরিকশার কারণে তাদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। এ নিয়ে প্রাইভেট কারের যাত্রীদের সঙ্গে গ্যারেজ মালিক আবুল কালাম আজাদের কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে ওই যুবকরা তাকে মারধর শুরু করেন। এ সময় মসজিদে যাওয়ার পথে বিষয়টি দেখতে পেয়ে আলতাফ হোসেন এগিয়ে যান এবং একজন বয়স্ক মানুষকে অন্যায়ভাবে মারধরের কারণ জানতে চান। এই প্রতিবাদ করার কারণে হামলাকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর চড়াও হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করলে তিনি তার ২৬ বছর বয়সি ছেলে আরিফুল ইসলামকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
কিন্তু হামলাকারীরা পিছু ছাড়েনি এবং বাবা ও ছেলেকে ধাওয়া করে পাশের একটি গেঞ্জি কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়ে। সেখানে ঘাতকরা লাঠি দিয়ে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে, যার ফলে তারা গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিচিতরা তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ৫৮ বছর বয়সি পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই বর্বরোচিত হামলায় তার ছেলে আরিফুল ইসলামও গুরুতর জখম হয়ে দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলি বেগম বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও অনেককে আসামি করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করে ইতোমধ্যে জহিরুল ইসলাম নামের মূল অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনায় জড়িত বাকী আসামিদেরও সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারে বিভিন্ন এলাকায় ব্লক রেইড ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের বিশেষ শাখা থেকেও এই পুলিশ কর্মকর্তার আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।


































