ইতালির মর্যাদাপূর্ণ ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে গিয়ে হামলার ও হেনস্তার শিকার হওয়া জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনয়শিল্পী আজমেরী হক বাঁধন শেষ পর্যন্ত স্থানীয় থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা দায়ের করেছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান যে, ইতালিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের দুই কর্মকর্তার সহযোগিতায় এবং স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় এই অভিনেত্রী থানায় গিয়ে নিজেই মামলাটি সম্পন্ন করেন। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ আসরে অংশ নিতে গিয়ে এমন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া এবং পরবর্তীতে আইনি লড়াইয়ে নামার বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশের কাছে দায়ের করা অভিযোগে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ভিডিওচিত্র সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে ইতালির মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে এই নিপীড়নের সংবাদ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচারিত হয়েছে এবং ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকরাও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। যেহেতু বাঁধন এই উৎসবের একজন আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন, তাই একজন অতিথির ওপর এমন হামলার বিষয়টি আয়োজক কর্তৃপক্ষও পুলিশকে অবহিত করেছে। এই অনভিপ্রেত ঘটনার পর উৎসব কর্তৃপক্ষ বাঁধনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে এবং তার নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বাঁধন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেছিলেন, যেখানে তিনি জানান যে স্থানীয় একটি পার্কে ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে ঘোরার সময় একদল ব্যক্তি তার ওপর চড়াও হন। হামলাকারীরা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার গায়ে কোক ও ডিম ছোড়ে এবং মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। নিজেকে ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে হামলাকারীরা তাকে জোরপূর্বক রাজনৈতিক স্লোগান দেওয়ার চেষ্টা করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা যায় যে নিজেদের ছাত্রলীগ কর্মী দাবি করা কিছু ব্যক্তি তাকে নানাভাবে হেনস্তা করার চেষ্টা করছেন।
এদিকে মামলার পর ভেনিসে বাঁধনের থাকার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে বলে দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, যেখানে তার মাত্র দুই দিন অবস্থান করার কথা ছিল। উৎসবের আয়োজকরা জানিয়েছেন যে তিনি ইচ্ছা করলে উৎসবের পরও যতদিন খুশি সেখানে থাকতে পারবেন এবং তার থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা তারাই করবেন। উৎসব শেষে তিনি ঢাকায় ফিরে আসলেও মামলাটি আইনি প্রক্রিয়ায় চলমান থাকবে এবং প্রয়োজনে সাক্ষ্য দিতে তাকে পুনরায় ইতালি যেতে হতে পারে বলে পুলিশকে তিনি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংকটে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাঁধন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।



































