পুলিশ বাহিনীর সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে দ্রুত জাতীয় সংসদকে জানানোর জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সংসদ অধিবেশনে এই নির্দেশ প্রদান করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মূলত দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সংসদীয় প্রক্রিয়া মেনে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত পুলিশের সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তাকে কীভাবে দুবাইয়ে জামিন দেওয়া হলো, সেই রহস্য উন্মোচনেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংসদের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জাতীয় সংসদের বৈঠকে সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম ১৪৭ বিধির আওতায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে একটি সাধারণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটি উত্থাপিত হওয়ার পর সংসদ সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে এটি কণ্ঠভোটে উপস্থাপিত হয়। স্পিকার অধিবেশন চলাকালীন প্রস্তাবটি ভোটে দিলে তা বিপুল মতের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে গৃহিত হয়। সংসদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয় যে, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধে অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি দেশের বাইরে সুরক্ষিত থাকতে পারে না এবং তাকে অতি দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। সংসদ সদস্যদের এই যৌথ দাবির প্রেক্ষাপটেই স্পিকার সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীকে দ্রুত সুনির্দিষ্ট তথ্য জানানোর এই নির্দেশ দেন।
আলোচনা চলাকালীন সরকারের পক্ষ থেকেও পলাতক এই সাবেক কর্মকর্তার বিষয়ে নানামুখী উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য রাখতে গিয়ে জানান যে, বিদেশে অবস্থানরত কোনো অপরাধীকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সরকার বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। বেনজীর আহমেদের বর্তমান সুনির্দিষ্ট অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা, তার বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক পাসপোর্টের অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং দেশে-বিদেশে তার অবৈধ সম্পদ জব্দ করার কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সমন্বিতভাবে এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো এগিয়ে নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং পুলিশি সহায়তার মাধ্যমে অপরাধীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, বিভিন্ন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগের অংশ হিসেবে দুবাইয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং তারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে অভিযুক্ত সাবেক আইজিপির বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় সংসদীয় নজরদারি আরও জোরদার হলো।


































