সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে অভিনব কায়দায় লোন পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার অভিযোগে এক তরুণকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এই প্রতারকচক্রের মূল হোতাকে আইনের আওতায় আনা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে অভিযুক্তের কাছ থেকে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত প্রচুর পরিমাণে অবৈধ সরঞ্জামাদি জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত যুবকের নাম মেহেদী হাসান মাহিন এবং তার বয়স ১৯ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই তরুণ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকর্ষণীয় শর্তে লোন বা ঋণ দেওয়ার ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার করতেন। অসহায় ও সাধারণ মানুষ আর্থিক সহায়তার আশায় ওই চক্রের পাতা ফাঁদে পা দিলে বিভিন্ন অজুহাতে তাদের কাছ থেকে ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো।
অভিযান পরিচালনার সময় অভিযুক্ত যুবকের কাছ থেকে মোট একষট্টিটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত সুকৌশলে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এই বিপুল পরিমাণ সিম ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়ানো এবং ভুয়া অ্যাকাউন্ট সচল রেখে প্রতারণার জাল বিস্তৃত করা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি এই সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে এ ধরনের আর্থিক প্রতারণার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কড়া নজরদারি শুরু করেছে। সাধারণ মানুষকে এই ধরনের প্রলোভন থেকে দূরে থাকার এবং ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তারকৃত যুবকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



































