নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কোটাকোল ইউনিয়নের মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস সংঘাতে প্রতিপক্ষের হামলায় মিসকান সরদার (৩৬) নামের এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক নারীসহ অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত মিসকান মাটিয়াডাঙ্গা গ্রামের লোকমান সরদারের ছেলে বলে জানা গেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন ধরে চলা স্থানীয় বিরোধের জের ধরেই এই অতর্কিত হামলা চালানো হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায়, সংঘর্ষের সময় প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে মিসকান সরদারসহ অন্যান্যদের ওপর চড়াও হয়। হামলার শিকার হয়ে মিসকানসহ মোট সাতজন গুরুতর জখম হন। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মিসকানের শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। আহতদের মধ্যে সারফিনা বেগম নামের এক নারী জানান যে, প্রতিপক্ষের আসলাম ও তার সহযোগীরা এই নৃশংস হামলায় সরাসরি অংশ নেয়। নিজের ওপর চালানো হামলার বর্ণনা দিয়ে ওই নারী বলেন, হামলাকারীদের পিটুনি ও কোপে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং চিকিৎসকদের তার মাথায় ২৫টি সেলাই দিতে হয়েছে।
এই সহিংসতার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ দ্রুত তৎপরতা শুরু করে। লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে বর্তমানে সংঘাতপূর্ণ ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের কঠোর নজরদারিতে রয়েছে।
তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা আরও জোরালো করা হবে। স্থানীয়রা দ্রুত এই সহিংসতার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ রোধে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।


































