ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের পণ্যে নিষেধাজ্ঞায় একজোট যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সসহ ১২ দেশ

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও এর কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের সমালোচনার পর এবার বড় ধরনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপের সূচনা হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ বিশ্বের প্রভাবশালী মোট বারোটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোরালো উদ্যোগ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওই বসতিগুলোকে সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করার জন্যই মূলত এই সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা নিজ নিজ ভূখণ্ডে এই অবৈধ বসতির পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ পর্যায়েও এমন বিধিনিষেধ চালুর জোরালো সমর্থন দেবেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য সরাসরি নিজেদের পক্ষ থেকে আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে এবং ফ্রান্স ও কানাডাও অনুরূপ ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, কেবল মৌখিক সমালোচনা করে বসে থাকার সময় এখন পেরিয়ে গেছে এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ রোধ করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ফিলিস্তিনি জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব এবং মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ টিকিয়ে রাখতে তারা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান। তবে পশ্চিমা বিশ্বের এই ঐকমত্যের বাইরে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে বাইডেন প্রশাসন ব্রিটিশ সরকারের এই পথ অনুসরণ করবে না এবং এর ফলে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি হোক তা তারা চায় না।

এদিকে ১২টি দেশের এমন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল সরকার, যাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অন্যায্য ও মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ এবং ফিলিস্তিনি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরে প্রায় সাত লাখ ৮০ হাজার ইসরায়েলি নাগরিক ১৯২টি বসতি ও প্রায় চারশ আউটপোস্টে বসবাস করছেন, যা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

জনপ্রিয়

মশক নিয়ন্ত্রণের জন্য আসছে ‘১০০-তে ১০০’ কর্মসূচি

ইসরায়েলের পণ্যে নিষেধাজ্ঞায় একজোট যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সসহ ১২ দেশ

প্রকাশিত ১০:৪৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও এর কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের সমালোচনার পর এবার বড় ধরনের বাণিজ্যিক পদক্ষেপের সূচনা হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ বিশ্বের প্রভাবশালী মোট বারোটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জোরালো উদ্যোগ নিয়েছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওই বসতিগুলোকে সম্পূর্ণ অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ করার জন্যই মূলত এই সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেন। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা নিজ নিজ ভূখণ্ডে এই অবৈধ বসতির পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ পর্যায়েও এমন বিধিনিষেধ চালুর জোরালো সমর্থন দেবেন। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য সরাসরি নিজেদের পক্ষ থেকে আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি স্পষ্ট করেছে এবং ফ্রান্স ও কানাডাও অনুরূপ ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে, কেবল মৌখিক সমালোচনা করে বসে থাকার সময় এখন পেরিয়ে গেছে এবং অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ রোধ করতে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ফিলিস্তিনি জনগণের দুঃখ-দুর্দশা লাঘব এবং মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ টিকিয়ে রাখতে তারা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন বলে জানান। তবে পশ্চিমা বিশ্বের এই ঐকমত্যের বাইরে অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে বাইডেন প্রশাসন ব্রিটিশ সরকারের এই পথ অনুসরণ করবে না এবং এর ফলে নতুন করে কোনো অস্থিতিশীলতা তৈরি হোক তা তারা চায় না।

এদিকে ১২টি দেশের এমন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল সরকার, যাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার এই পদক্ষেপকে সম্পূর্ণ অন্যায্য ও মিথ্যা বলে অভিহিত করেছেন। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় মিশনে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ এবং ফিলিস্তিনি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরে প্রায় সাত লাখ ৮০ হাজার ইসরায়েলি নাগরিক ১৯২টি বসতি ও প্রায় চারশ আউটপোস্টে বসবাস করছেন, যা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।