ঢাকা ১০:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ইরানের ৫ তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের Logo তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার জবাবে জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা Logo টাঙ্গাইলে দুর্বৃত্তদের হামলায় যুবক নিহত Logo ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলায় দুপুরে কথা-কাটাকাটি, রাতে আবার মারামারি Logo ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’: কে কত টাকা পারিশ্রমিক নিলেন? Logo ইন্টারকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রিয়ালের শুভসূচনা Logo দামুড়হুদার মেয়ে অস্ট্রেলিয়ার ক্যামডেন কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত Logo স্কুলে যাওয়া সন্তান ফিরবে কি না- ভয় বাড়ছে ফিলিস্তিনি মা-বাবাদের Logo ঢাকার আবহাওয়া দুপুর পর্যন্ত কেমন থাকবে Logo গেস্টরুম-গণরুমের নির্যাতনের ইতিহাস নিয়ে ডাকসুর গ্রন্থ, মোড়ক উন্মোচন

‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলায় দুপুরে কথা-কাটাকাটি, রাতে আবার মারামারি

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে অত্যন্ত তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে বড় ধরনের উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের লিফটে ওঠার সময় আপ্যায়ন বা সম্বোধন সংক্রান্ত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে রাতের বেলা বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রাঙ্গণে এই বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী মারামারি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মতো একটি উচ্চশিক্ষালয়ে এমন মারামারির ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হোসাইন শরীফকে উদ্দেশ্য করে ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান রুম্মান ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। প্রথমাগতভাবে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলায় শরীফ ক্ষুব্ধ হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এর রেশ ধরে ওই দিন রাতে শেরেবাংলা হলের ডাইনিংয়ের সামনে বিষয়টি নিয়ে আবারও তাদের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয় যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। জুনিয়র শিক্ষার্থীর দাবি অনুযায়ী, ক্লান্তিময় মুহূর্তে এই সম্বোধন নিয়ে আপত্তি তুলে তাকে বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীরা হেনস্তা ও মারধর করেন। পক্ষান্তরে সিনিয়র শিক্ষার্থীর দাবি, জুনিয়র শিক্ষার্থী ও তার সঙ্গীরা রাতে তার পথরোধ করে চড়াও হয়েছিল এবং তিনি কেবল নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন।

এই পুরো ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কিছু নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একপক্ষকে সমর্থন জানান এবং অপরপক্ষের কলার ধরে কক্ষের বাইরে নিয়ে গিয়ে নানা হুমকি দেন। এমনকি পরবর্তীতে একটি আবাসিক হলের নির্দিষ্ট একটি কক্ষে ভাঙচুর চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ক্যাম্পাসজুড়ে রাজনৈতিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের দাবি, তারা মূলত বিবদমান দুই পক্ষকে শান্ত করতে এবং বিষয়টি সমঝোতা করার জন্য সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত তদন্ত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আফরান আলী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তদন্তে এটি ব্যাচভিত্তিক একটি দ্বন্দ্ব বলেই মনে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির নেপথ্যের মূল কারণগুলো উদঘাটন করতে প্রশাসন গভীরভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

ইরানের ৫ তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলা, পাল্টা জবাব তেহরানের

‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলায় দুপুরে কথা-কাটাকাটি, রাতে আবার মারামারি

প্রকাশিত ০৯:০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে অত্যন্ত তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে বড় ধরনের উত্তেজনা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের লিফটে ওঠার সময় আপ্যায়ন বা সম্বোধন সংক্রান্ত একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে রাতের বেলা বিশ্ববিদ্যালয় হল প্রাঙ্গণে এই বিরোধের জের ধরে রক্তক্ষয়ী মারামারি ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত দুজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মতো একটি উচ্চশিক্ষালয়ে এমন মারামারির ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হোসাইন শরীফকে উদ্দেশ্য করে ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান রুম্মান ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। প্রথমাগতভাবে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলায় শরীফ ক্ষুব্ধ হন এবং তাৎক্ষণিকভাবে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এর রেশ ধরে ওই দিন রাতে শেরেবাংলা হলের ডাইনিংয়ের সামনে বিষয়টি নিয়ে আবারও তাদের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয় যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। জুনিয়র শিক্ষার্থীর দাবি অনুযায়ী, ক্লান্তিময় মুহূর্তে এই সম্বোধন নিয়ে আপত্তি তুলে তাকে বয়োজ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীরা হেনস্তা ও মারধর করেন। পক্ষান্তরে সিনিয়র শিক্ষার্থীর দাবি, জুনিয়র শিক্ষার্থী ও তার সঙ্গীরা রাতে তার পথরোধ করে চড়াও হয়েছিল এবং তিনি কেবল নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন।

এই পুরো ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কিছু নেতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। অভিযোগ রয়েছে, ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে একপক্ষকে সমর্থন জানান এবং অপরপক্ষের কলার ধরে কক্ষের বাইরে নিয়ে গিয়ে নানা হুমকি দেন। এমনকি পরবর্তীতে একটি আবাসিক হলের নির্দিষ্ট একটি কক্ষে ভাঙচুর চালানোর মতো গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ক্যাম্পাসজুড়ে রাজনৈতিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যকার সম্পর্ক এবং নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাদের দাবি, তারা মূলত বিবদমান দুই পক্ষকে শান্ত করতে এবং বিষয়টি সমঝোতা করার জন্য সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত তদন্ত ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আফরান আলী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক তদন্তে এটি ব্যাচভিত্তিক একটি দ্বন্দ্ব বলেই মনে হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির নেপথ্যের মূল কারণগুলো উদঘাটন করতে প্রশাসন গভীরভাবে অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং খুব শীঘ্রই উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।