ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী Logo পাওনা টাকা চাওয়ায় ব্যবসায়ী খুন, নিখোঁজের তিন দিন পর মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার Logo চট্টগ্রামে স্বামীর মারধরে গৃহবধূর মৃত্যু, অভিযুক্ত আটক Logo ফিল্ড ফায়ারিংয়ে আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী Logo গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ Logo আইপিডিসি ফাইন্যান্সে নিয়োগ, ফ্রেশার প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ Logo ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২ Logo সুদের টাকা নিয়ে বিরোধ, বন্ধুকে হত্যার পর মরদেহ লুকাতে সিমেন্টের ঢালাই Logo ফোন-ল্যাপটপ বা গ্যাজেটে ডাস্টবিনের ওপর ক্রস চিহ্ন কেন থাকে জানেন? Logo প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তার রাত্রিযাপন, দুজনই কারাগারে

সুদের টাকা নিয়ে বিরোধ, বন্ধুকে হত্যার পর মরদেহ লুকাতে সিমেন্টের ঢালাই

রাজধানীর লালবাগ এলাকায় সুদের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শেখ ওয়াসিম রনি নামের এক আবাসন ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। নিহত ওই ব্যবসায়ী এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বপরিচিত ও বন্ধু ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পাওনা টাকার বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং পরবর্তীতে নিহতের মরদেহ সুকৌশলে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ মাসুম নামের এক ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত রনি আবাসন ব্যবসার পাশাপাশি সুদের কারবারের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। অভিযুক্ত মাসুম তার কাছ থেকে আট মাস আগে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছিলেন, যার বিপরীতে উচ্চ হারে মাসিক সুদ পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাসুম নিয়মিতভাবে সেই টাকা পরিশোধ করছিলেন না, যা নিয়ে উভয়ের মধ্যে চরম বিরোধ ও মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল। ঘটনার দিন দুপুরের দিকে পাওনা সুদের টাকা এবং জামানতের চেক গ্রহণের উদ্দেশ্যে রনি মাসুমের পাইকারি কারখানায় যান এবং সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, কারখানার ভেতরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাকাটি শুরু হয়। ওই সময় মাসুমের এলোপাতাড়ি আঘাতে রনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ আড়াল করতে মাসুম কারখানার নিচতলার বারান্দার পাশে একটি গর্ত খনন করে সেখানে মরদেহটি মাটিচাপা দেন। এমনকি নিখুঁতভাবে প্রমাণ লোপাট করার অসৎ উদ্দেশ্যে ওই মাটির ওপর সিমেন্টের প্রলেপ বা ঢালাই দিয়ে বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন করার চেষ্টা করা হয়।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর থেকেই রনির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিহতের পক্ষ থেকে লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয় এবং অভিযان চালিয়ে অভিযুক্তের কারখানা থেকে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করা অবস্থাতেই নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বজনরা দোষী ব্যক্তির কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত মরদেহটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, কিংবা পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে সিএমএইচে প্রধানমন্ত্রী

সুদের টাকা নিয়ে বিরোধ, বন্ধুকে হত্যার পর মরদেহ লুকাতে সিমেন্টের ঢালাই

প্রকাশিত ০৪:০১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর লালবাগ এলাকায় সুদের আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে শেখ ওয়াসিম রনি নামের এক আবাসন ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। নিহত ওই ব্যবসায়ী এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি পূর্বপরিচিত ও বন্ধু ছিলেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, পাওনা টাকার বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় এবং পরবর্তীতে নিহতের মরদেহ সুকৌশলে লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোহাম্মদ মাসুম নামের এক ইমিটেশন জুয়েলারি ব্যবসায়ীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত রনি আবাসন ব্যবসার পাশাপাশি সুদের কারবারের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। অভিযুক্ত মাসুম তার কাছ থেকে আট মাস আগে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণ গ্রহণ করেছিলেন, যার বিপরীতে উচ্চ হারে মাসিক সুদ পরিশোধ করার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে মাসুম নিয়মিতভাবে সেই টাকা পরিশোধ করছিলেন না, যা নিয়ে উভয়ের মধ্যে চরম বিরোধ ও মনোমালিন্য তৈরি হয়েছিল। ঘটনার দিন দুপুরের দিকে পাওনা সুদের টাকা এবং জামানতের চেক গ্রহণের উদ্দেশ্যে রনি মাসুমের পাইকারি কারখানায় যান এবং সেখানেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, কারখানার ভেতরে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাকাটি শুরু হয়। ওই সময় মাসুমের এলোপাতাড়ি আঘাতে রনি অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ আড়াল করতে মাসুম কারখানার নিচতলার বারান্দার পাশে একটি গর্ত খনন করে সেখানে মরদেহটি মাটিচাপা দেন। এমনকি নিখুঁতভাবে প্রমাণ লোপাট করার অসৎ উদ্দেশ্যে ওই মাটির ওপর সিমেন্টের প্রলেপ বা ঢালাই দিয়ে বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন করার চেষ্টা করা হয়।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন দুপুর থেকেই রনির মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় পরিবারের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিহতের পক্ষ থেকে লালবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশের দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয় এবং অভিযان চালিয়ে অভিযুক্তের কারখানা থেকে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করা অবস্থাতেই নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় চরম শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বজনরা দোষী ব্যক্তির কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত মরদেহটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, কিংবা পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, সে বিষয়েও পুলিশের পক্ষ থেকে নিবিড় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।