ঢাকা ০৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

কীভাবে ৯/১১-এর ঘটনা থেকে এখনো শেখার আছে?

নিউইয়র্কে সংঘটিত ঐতিহাসিক সেই হামলার প্রায় আড়াই দশক অতিক্রান্ত হলেও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর তার গভীর প্রভাব এখনো স্পষ্ট। একুশ শতকের শুরুর দিকে ঘটে যাওয়া ওই ভয়াবহ সকালটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের সীমানা পেরিয়ে সারা পৃথিবীর সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ও নীতিমালার রূপরেখা চিরতরে পাল্টে দিয়েছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং বিশ্বজুড়ে নজরদারির নতুন মানদণ্ড তৈরি হয়।

তা সত্ত্বেও, দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও বহু বড় কৌশলগত এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুরুতর প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়ে গেছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নানা মুনির নানা মত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, হামলার প্রতিক্রিয়ায় গৃহীত বহুমুখী পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি সুফল ও কুফল এখনো চুলচেরা পর্যালোচনার দাবি রাখে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, তা নিয়েও বিশ্বজুড়ে আজও আইনি ও নৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আর মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি বর্তমানে নীতিনির্ধারকদের সামনে এক জটিল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির এই যুগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ক্ষমতা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্বেগের বিষয়।

বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্বে পুরোনো বৈশ্বিক নিরাপত্তার ধারণাগুলো নতুন সংকটের মুখে পড়ছে এবং অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর না করে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো দূর করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামীদিনের হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।

জনপ্রিয়

সুদের টাকা নিয়ে বিরোধ, বন্ধুকে হত্যার পর মরদেহ লুকাতে সিমেন্টের ঢালাই

কীভাবে ৯/১১-এর ঘটনা থেকে এখনো শেখার আছে?

প্রকাশিত ০৩:১৬:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে সংঘটিত ঐতিহাসিক সেই হামলার প্রায় আড়াই দশক অতিক্রান্ত হলেও বৈশ্বিক নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা কাঠামোর ওপর তার গভীর প্রভাব এখনো স্পষ্ট। একুশ শতকের শুরুর দিকে ঘটে যাওয়া ওই ভয়াবহ সকালটি কেবল একটি নির্দিষ্ট দেশের সীমানা পেরিয়ে সারা পৃথিবীর সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল ও নীতিমালার রূপরেখা চিরতরে পাল্টে দিয়েছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের কার্যক্রমের পরিধি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয় এবং বিশ্বজুড়ে নজরদারির নতুন মানদণ্ড তৈরি হয়।

তা সত্ত্বেও, দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও বহু বড় কৌশলগত এবং জাতীয় নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন মহলে গুরুতর প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়ে গেছে। সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নানা মুনির নানা মত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, হামলার প্রতিক্রিয়ায় গৃহীত বহুমুখী পদক্ষেপের দীর্ঘমেয়াদি সুফল ও কুফল এখনো চুলচেরা পর্যালোচনার দাবি রাখে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে নাগরিকদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হওয়ার যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, তা নিয়েও বিশ্বজুড়ে আজও আইনি ও নৈতিক বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা আর মানবাধিকারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি বর্তমানে নীতিনির্ধারকদের সামনে এক জটিল চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তির অভূতপূর্ব উন্নতির এই যুগে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ক্ষমতা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্বেগের বিষয়।

বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্বে পুরোনো বৈশ্বিক নিরাপত্তার ধারণাগুলো নতুন সংকটের মুখে পড়ছে এবং অতীতের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু কঠোর সামরিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর না করে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণগুলো দূর করার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আগামীদিনের হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।