দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণের দাম আরও একবার হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে সাধারণ ক্রেতা ও ক্রেতার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের মধ্যে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজারেও স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে, যার ধারাবাহিকতায় এই পতন দেখা গেল। স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটে তেজাবি স্বর্ণের বা খাঁটি স্বর্ণের দাম কমার কারণে সামগ্রিক বাজারে এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ক্রেতাদের ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ কিনতে ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা পরিশোধ করতে হবে। এর আগে এই মানের স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৪ হাজার ৩৮ টাকা। অর্থাৎ এক লাফে ভরিপ্রতি দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাসের ফলে কিছুটা হলেও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসার সুযোগ তৈরি হলো।
শুধু ২২ ক্যারেটই নয়, বরং বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের অন্যান্য গ্রেডের দামেও পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নিয়মিত এই দাম নির্ধারণ ও পরিমার্জন করে থাকে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা এবং বিশ্ববাজারে আউন্সপ্রতি স্বর্ণের মূল্যের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়ে থাকে।
গত কয়েক মাস ধরেই দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ব্যাপক অস্থিরতা ও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, যা মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছিল। মাঝেমধ্যে দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিক বাজারদর ছিল বেশ চড়া, যা বিয়ে বা অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে গহনা কেনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সাম্প্রতিক এই দরপতনের ফলে গহনা ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন এবং বাজারে বেচাকেনাও কিছুটা চাঙা হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।



































