ঢাকা ০২:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo টকশোতে অংশ নেওয়া নেতাদের যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo বিমানবন্দরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে গিয়ে ধরা, মিললো কোটি টাকার সোনা Logo মৃত্যুর আগে পুলকের আবেগঘন বার্তা, ‘ক্ষমা করে দিও, কিছুই থেমে থাকে না’ Logo ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই, পৌঁছালো ১৪১ জনে Logo শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে নারী ও শিশুসহ ৪ জন নিখোঁজ Logo নাচ নিয়ে অপমানিত ক্যাটরিনা, যে কথায় বদলে গেল অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার Logo পুতিনের বুলেটপ্রুফ লিমুজিন এখন দিল্লির সড়কে Logo বাব আল-মান্দেব প্রণালির কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ দখল হুথিদের Logo হুথিদের ওপর হামলার অনুরোধ করেছিলেন সৌদি যুবরাজ, নাকচ করেন ট্রাম্প Logo পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

পুতিনের বুলেটপ্রুফ লিমুজিন এখন দিল্লির সড়কে

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর থেকেই তার নিরাপত্তা বহর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো তার ব্যক্তিগত বুলেটপ্রুফ লিমুজিন গাড়িটি। বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে অন্যতম পুতিন নিজের বিদেশ সফরে সাধারণত নিজস্ব গাড়ি সঙ্গে রাখার অভ্যাস বজায় রাখেন এবং এবারের দিল্লি সফরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ‘চাকার ওপর দুর্গ’ নামে পরিচিত এই আউরাস সেনাট লিমুজিনটি রাশিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত এবং এটি রুশ প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।

রুশ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আউরাস মোটরস এই বিলাসবহুল ও সাঁজোয়া গাড়িটি তৈরি করেছে, যা মূলত রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের ফল। ২০১৮ সালে বাজারে আসা এই গাড়িটি রাশিয়ার ‘কর্তেজ’ প্রকল্পের একটি অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নিরাপদ ও নান্দনিক যানবাহন প্রস্তুত করা। এর বাহ্যিক নকশায় ঐতিহাসিক সোভিয়েত আমলের জিপিল-১১০ লিমুজিনের কিছু ঐতিহ্যবাহী ছাপ বজায় রাখা হয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের জন্য এই গাড়ির সাধারণ সংস্করণ বাজারে থাকলেও, সেটির উৎপাদন সংখ্যা বেশ সীমিত এবং এর বাজারমূল্য ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় আড়াই কোটি রুপির সমান।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই বিশেষ আউরাস সেনাটে রয়েছে শক্তিশালী ৪ দশমিক ৪ লিটারের টুইন-টার্বোচার্জড ভি৮ ইঞ্জিন এবং একটি কার্যকর হাইব্রিড ব্যবস্থা। এই শক্তিশালী ইঞ্জিনটি প্রায় ৫৯৮ হর্সপাওয়ার শক্তি ও ৮৮০ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম, যার সাথে যুক্ত রয়েছে একটি ৯-গতির আধুনিক স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স। প্রায় ছয় মিটার দীর্ঘ এবং দুই মিটার প্রস্থের এই ভারী সাঁজোয়া গাড়িটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। রাষ্ট্রপ্রধানদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করে তৈরি এই গাড়িতে সক্রিয় ক্রুজ কন্ট্রোল, উন্নত ব্রেকিং প্রযুক্তি এবং লেন পরিবর্তনের সতর্কতা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক ফিচার রয়েছে।

অসামান্য নিরাপত্তার পাশাপাশি এই লিমুজিনের অভ্যন্তরে যাত্রীদের সর্বোচ্চ আরাম ও বিলাসবহুল অনুভূতির জন্য উচ্চমানের চামড়া, দৃষ্টিনন্দন কাঠের সাজসজ্জা এবং আধুনিক বিনোদন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চরম প্রতিকূল আবহাওয়া বা যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতেও নিরাপদে চলাচল করতে পারার সক্ষমতা রয়েছে এই সাঁজোয়া যানটির। এর আগে গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই আউরাস সেনাটে চড়ে পুতিনের সঙ্গে ভ্রমণ করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল। এবার দিল্লির সড়কে এই বিলাসবহুল সাঁজোয়া গাড়ির উপস্থিতি রুশ প্রেসিডেন্টের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বহরের গুরুত্বকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলেছে।

জনপ্রিয়

টকশোতে অংশ নেওয়া নেতাদের যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

পুতিনের বুলেটপ্রুফ লিমুজিন এখন দিল্লির সড়কে

প্রকাশিত ১২:৪৬:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছানোর পর থেকেই তার নিরাপত্তা বহর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো তার ব্যক্তিগত বুলেটপ্রুফ লিমুজিন গাড়িটি। বিশ্বের সবচেয়ে সুরক্ষিত রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে অন্যতম পুতিন নিজের বিদেশ সফরে সাধারণত নিজস্ব গাড়ি সঙ্গে রাখার অভ্যাস বজায় রাখেন এবং এবারের দিল্লি সফরেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ‘চাকার ওপর দুর্গ’ নামে পরিচিত এই আউরাস সেনাট লিমুজিনটি রাশিয়ার নিজস্ব প্রযুক্তিতে নির্মিত এবং এটি রুশ প্রেসিডেন্টের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে।

রুশ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আউরাস মোটরস এই বিলাসবহুল ও সাঁজোয়া গাড়িটি তৈরি করেছে, যা মূলত রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগের ফল। ২০১৮ সালে বাজারে আসা এই গাড়িটি রাশিয়ার ‘কর্তেজ’ প্রকল্পের একটি অংশ, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে নিরাপদ ও নান্দনিক যানবাহন প্রস্তুত করা। এর বাহ্যিক নকশায় ঐতিহাসিক সোভিয়েত আমলের জিপিল-১১০ লিমুজিনের কিছু ঐতিহ্যবাহী ছাপ বজায় রাখা হয়েছে। বেসামরিক নাগরিকদের জন্য এই গাড়ির সাধারণ সংস্করণ বাজারে থাকলেও, সেটির উৎপাদন সংখ্যা বেশ সীমিত এবং এর বাজারমূল্য ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় আড়াই কোটি রুপির সমান।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এই বিশেষ আউরাস সেনাটে রয়েছে শক্তিশালী ৪ দশমিক ৪ লিটারের টুইন-টার্বোচার্জড ভি৮ ইঞ্জিন এবং একটি কার্যকর হাইব্রিড ব্যবস্থা। এই শক্তিশালী ইঞ্জিনটি প্রায় ৫৯৮ হর্সপাওয়ার শক্তি ও ৮৮০ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম, যার সাথে যুক্ত রয়েছে একটি ৯-গতির আধুনিক স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্স। প্রায় ছয় মিটার দীর্ঘ এবং দুই মিটার প্রস্থের এই ভারী সাঁজোয়া গাড়িটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। রাষ্ট্রপ্রধানদের চলাচলের জন্য নির্ধারিত সর্বোচ্চ নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ করে তৈরি এই গাড়িতে সক্রিয় ক্রুজ কন্ট্রোল, উন্নত ব্রেকিং প্রযুক্তি এবং লেন পরিবর্তনের সতর্কতা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক ফিচার রয়েছে।

অসামান্য নিরাপত্তার পাশাপাশি এই লিমুজিনের অভ্যন্তরে যাত্রীদের সর্বোচ্চ আরাম ও বিলাসবহুল অনুভূতির জন্য উচ্চমানের চামড়া, দৃষ্টিনন্দন কাঠের সাজসজ্জা এবং আধুনিক বিনোদন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চরম প্রতিকূল আবহাওয়া বা যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতেও নিরাপদে চলাচল করতে পারার সক্ষমতা রয়েছে এই সাঁজোয়া যানটির। এর আগে গত বছর চীনে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই আউরাস সেনাটে চড়ে পুতিনের সঙ্গে ভ্রমণ করেছিলেন, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছিল। এবার দিল্লির সড়কে এই বিলাসবহুল সাঁজোয়া গাড়ির উপস্থিতি রুশ প্রেসিডেন্টের উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বহরের গুরুত্বকে আরও একবার স্পষ্ট করে তুলেছে।