বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশি ও নব্বই দশকের ফ্যাশন এবং সাজপোশাকের ট্রেন্ড দারুণভাবে ফিরে এসেছে। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি এই ধারায় মেতে ওঠেন শোবিজের তারকারাও। সম্প্রতি কোনো ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাহায্য না নিয়েই নিজের ছেলেকে নব্বই দশকের হিরো হিসেবে রূপদান করেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। তার এই সৃজনশীল ও বাস্তবধর্মী উদ্যোগটি ইন্টারনেট দুনিয়ায় মুহূর্তেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পরীমনির ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে তার ছেলে শাহীম মোহাম্মদ পুণ্যের কয়েকটি নতুন ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবিগুলোর ক্যাপশনে এই অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘মাই রিয়েল নাইনটিস হিরো’। প্রকাশিত ছবিগুলোতে ছোট্ট পুণ্যকে একটি নীল রঙের টি-শার্টের পাশাপাশি নব্বই দশকের নায়কদের মতো লম্বা ঝুলের চুলে দেখা গেছে। চুলের এই বিশেষ ছাঁটের কারণে তাকে চেনা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তার পুরো অবয়বটি সেকালের সিনেমার কোনো মিষ্টি নায়কের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ছবিগুলো প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে প্রশংসার জোয়ার বইতে শুরু করে। কমেন্ট বক্সে নানা ধরনের ইতিবাচক মন্তব্যের পাশাপাশি অনেকেই পুণ্যকে ভবিষ্যতের হ্রদয়হরণকারী বা হ্যান্ডসাম বয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন যে কোন যুগের হিরোই হোক না কেন, শিশুটি সবসময়ই অত্যন্ত মিষ্টি। এছাড়া অনেক অনুরাগী পুণ্যের চেহারার সঙ্গে তার বাবা চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের চেহারার চমৎকার মিল খুঁজে পেয়েছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে চিত্রনায়িকা পরীমনি বর্তমানে অভিনয় ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছেন। চিত্রনায়ক শরিফুল রাজের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটার পর থেকেই তিনি তার পুত্র পুণ্যকে নিজের কাছে লালন-পালন করছেন। এর আগে তিনি সাফিরা সুলতানা প্রিয়ম নামের একটি কন্যাসন্তানও দত্তক নেন। সম্প্রতি তার কোলে আরেকটি নবজাতককে দেখতে পাওয়ায় নতুন করে নানা জল্পনা শুরু হলেও এ বিষয়ে নায়িকার পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সবমিলিয়ে, ছোট্ট পুণ্যের এই ব্যতিক্রমী নব্বই দশকের লুকটি নেট নাগরিকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। কৃত্রিম প্রযুক্তির কোনো কারসাজি ছাড়াই নিখাদ বাস্তব সাজে পুণ্যকে আশি-নব্বইয়ের দশকের নায়কের অবতারে দেখে দর্শকরা ভীষণ মুগ্ধ হয়েছেন। পরীমনির এই নান্দনিক প্রকাশভঙ্গি তার ভক্তদের মনে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণার পাশাপাশি দারুণ বিনোদন যুগিয়েছে।





































