চট্টগ্রামে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অর্পিতা দাশ নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে ওই নারীর সঙ্গে তার গর্ভে থাকা অনাগত সন্তানটিও পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা গেছে। এই দম্পতির জীবনে প্রথম সন্তান আসার কথা ছিল আগামী অক্টোবর মাসে, যা নিয়ে পরিবারজুড়ে ছিল ব্যাপক আনন্দ ও প্রস্তুতি। কিন্তু একটি মারাত্মক রোগ সব আনন্দ নিমেষেই বিষাদে রূপান্তর করে দিয়েছে।
পরিবার ও চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম দিকে হঠাৎ করেই জ্বরে আক্রান্ত হন ৩৫ বছর বয়সী অর্পিতা। অবস্থার অবনতি হলে গত ৬ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার উন্নত চিকিৎসার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেন এবং রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অর্পিতা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এবং ডেঙ্গু এক্সপ্যান্ডেড সিন্ড্রোমে আক্রান্ত ছিলেন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন জানান, ডেঙ্গুর তীব্র সংক্রমণের কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছিল এবং চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মায়ের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে গর্ভের সন্তানটিও বাঁচানো সম্ভব হয়নি, যা চিকিৎসা দলের জন্যও অত্যন্ত বেদনাদায়ক ছিল।
নিহত অর্পিতা দাশ চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মী মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী ছিলেন। মা ও সন্তানের একসঙ্গে এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে পুরো পরিবারে এবং তাদের পরিচিত মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তাই এই সময়ে সামান্য জ্বর দেখা দিলেই অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।





































