জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যালয় থেকে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সাত বছর বয়সী মরিয়ম স্থানীয় সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল এবং সে চরলোটাবর এলাকার বাহাদুরের মেয়ে। গত কয়েকদিন আগে সকালে नेहमीকার মতো স্কুলে যাওয়ার পর থেকেই শিশুটি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ে বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারে চরম উদ্বেগ তৈরি হয় এবং খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।
পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন। আত্মীয়স্বজনদের বাড়ি থেকে শুরু করে আশপাশের এলাকার বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হলেও তার কোনো হদিশ মেলেনি। শিশুটির এই আকস্মিক নিখোঁজ হওয়া নিয়ে পুরো এলাকায় তখন থেকেই থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। দীর্ঘ সময়েও কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবার পুলিশের দারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
নিখোঁজের এই ঘটনাটি স্থানীয়দের সহায়তায় অন্য একটি মোড় নেয় যখন বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাড়ির ঘরে কিছু একটা লুকিয়ে রাখার সন্দেহ দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই বাড়ির ভেতরে অস্বাভাবিক কিছু চাপা দেওয়া রয়েছে বলে টের পান এবং বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়। এরপর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালায় এবং শনিবার গভীর রাতে ওই বসতঘরের মাটির নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক সন্দেহে বাড়ির মালিক জামিনুরসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে অভিযুক্ত জামিনুরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্নেহাশীষ রায় জানান, শিশুটিকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।




































