ঢাকা ১০:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে ডেকে দুই নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ Logo ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত Logo সরকারি পে-স্কেল অনুমোদন: বেসরকারি কর্মীদের বেতন-চাকরির সুরক্ষা কতদূর? Logo পুকুরে স্যান্ডেল ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হলো ভাই-বোনের মরদেহ Logo ইরাক থেকে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ Logo ২২ বছর আগের ভ্রূণ থেকে মা হলেন গ্রিক নারী Logo দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দাপুটে জয়ে সিরিজ রিশাদ-সাইফদের দখলে Logo গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ২৫ জন রিমান্ডে Logo লাল বলের ক্রিকেটই আমার শেষ আশ্রয়: আফ্রিদি Logo ‘অতিমাত্রায় রাজনীতিতে শিক্ষকরা’, লাগাম টানতে হচ্ছে আচরণবিধি

বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে ডেকে দুই নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করতে গিয়ে ভয়াবহ দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন দুই নারী নৃত্যশিল্পী। পেশাগত কাজের সূত্রে কুমিল্লার চান্দিনা এলাকা থেকে সরাইলে এসে এই নৃশংসতার শিকার হন ওই দুই নারী। ফেসবুকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি অনুষ্ঠানে নাচের বায়না ধরেছিল স্থানীয় এক যুবক ও তার সহযোগীরা। পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেই আমন্ত্রণের ফাঁদে ফেলেই এই বর্বরোচিত অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের চুক্তিতে ভুক্তভোগী নারীরা সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত মো. রাকিব মিয়া ও তার সঙ্গীরা তাদের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর এলাকার একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান। পরবর্তীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয় এবং সেখান থেকেই তাদের জিম্মি করা শুরু হয়।

নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝপথে পৌঁছানোর পর চালক হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন এবং নৌকার ছাউনির ভেতরে দুই নারীকে পর্ত্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা একজন পুরুষ সহকর্মী প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে অপরাধীরা তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। দীর্ঘ সময় ধরে নদীর মাঝখানে এই পাশবিক নির্যাতন চালানোর পর রাত আটটার দিকে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার একটি ঘাটে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা প্রথমে নাসিরনগর থানায় আইনি সহায়তার জন্য গেলেও ঘটনাস্থল সরাইল থানা এলাকায় হওয়ায় পুলিশ তাদের সেখানে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মো. রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত কার্যক্রম এবং বাকি পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত আটকের স্বার্থে পুলিশ এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার যুবকের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে ডেকে দুই নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে ডেকে দুই নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

প্রকাশিত ১০:১৬:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করতে গিয়ে ভয়াবহ দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন দুই নারী নৃত্যশিল্পী। পেশাগত কাজের সূত্রে কুমিল্লার চান্দিনা এলাকা থেকে সরাইলে এসে এই নৃশংসতার শিকার হন ওই দুই নারী। ফেসবুকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি অনুষ্ঠানে নাচের বায়না ধরেছিল স্থানীয় এক যুবক ও তার সহযোগীরা। পূর্বপরিকল্পিতভাবে সেই আমন্ত্রণের ফাঁদে ফেলেই এই বর্বরোচিত অপরাধ সংঘটিত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে ৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের চুক্তিতে ভুক্তভোগী নারীরা সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছান। সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত মো. রাকিব মিয়া ও তার সঙ্গীরা তাদের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শাহবাজপুর এলাকার একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান। পরবর্তীতে বিয়ের অনুষ্ঠানে দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলা হয় এবং সেখান থেকেই তাদের জিম্মি করা শুরু হয়।

নৌকাটি তিতাস নদীর মাঝপথে পৌঁছানোর পর চালক হঠাৎ ইঞ্জিন বন্ধ করে দেন এবং নৌকার ছাউনির ভেতরে দুই নারীকে পর্ত্যায়ক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা একজন পুরুষ সহকর্মী প্রতিবাদ করার চেষ্টা করলে অপরাধীরা তাকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। দীর্ঘ সময় ধরে নদীর মাঝখানে এই পাশবিক নির্যাতন চালানোর পর রাত আটটার দিকে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীদের নাসিরনগর উপজেলার একটি ঘাটে নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা প্রথমে নাসিরনগর থানায় আইনি সহায়তার জন্য গেলেও ঘটনাস্থল সরাইল থানা এলাকায় হওয়ায় পুলিশ তাদের সেখানে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মো. রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলার তদন্ত কার্যক্রম এবং বাকি পলাতক অভিযুক্তদের দ্রুত আটকের স্বার্থে পুলিশ এই মুহূর্তে গ্রেপ্তার যুবকের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে তাদের অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহ সব ধরনের আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।