ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের অনুরোধেও হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে না ইসরায়েল

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে যে, লোহিত সাগর ও সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক রুটে হুথিদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা দমনে ইসরায়েলকে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে তেল আবিব পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে তারা হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।

কূটনৈতিক মহলের মতে, ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কৌশলগত সমুদ্র প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশেষ করে, এসব জলপথ ব্যবহারকারী জলযানগুলোর কাছ থেকে অননুমোদিত ট্রানজিট ফি আদায়ের নানামুখী চেষ্টা চালাচ্ছে হুথিরা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলাচলে এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্লেষকদের ধারণা, লোহিত সাগর অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ইসরায়েল অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যের সুরক্ষায় বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলো যখন উদ্বিগ্ন, ঠিক সেই সময়ে ইসরায়েলের এই সামরিক নিষ্ক্রিয়তার সিদ্ধান্ত বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। অপ্রয়োজনীয় বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে কূটনৈতিক ও মিত্র দেশগুলোর যৌথ কৌশলের ওপরই তারা বেশি জোর দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।

সামগ্রिक পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি স্পষ্ট যে, লোহিত সাগরের বাণিজ্য রুটের নিরাপত্তা বজায় রাখা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হুথিদের এই অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ মোকাবিলায় বৈশ্বিক শক্তিগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং বিশ্ববাণিজ্য রক্ষায় কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ইসরায়েলের এই অনীহা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

১১ দলের রংপুর লংমার্চে যুক্ত হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনার দাবি

সৌদি আরবের অনুরোধেও হুথিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে না ইসরায়েল

প্রকাশিত ১১:১৭:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইসরায়েল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন কূটনৈতিক মাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে যে, লোহিত সাগর ও সংশ্লিষ্ট সামুদ্রিক রুটে হুথিদের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা দমনে ইসরায়েলকে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে তেল আবিব পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে তারা হুথিদের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।

কূটনৈতিক মহলের মতে, ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে কৌশলগত সমুদ্র প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। বিশেষ করে, এসব জলপথ ব্যবহারকারী জলযানগুলোর কাছ থেকে অননুমোদিত ট্রানজিট ফি আদায়ের নানামুখী চেষ্টা চালাচ্ছে হুথিরা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চলাচলে এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হলে তা কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্যই হুমকি নয়, বরং গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্লেষকদের ধারণা, লোহিত সাগর অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় ইসরায়েল অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। এই অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যের সুরক্ষায় বিশ্বের বড় বড় অর্থনৈতিক শক্তিগুলো যখন উদ্বিগ্ন, ঠিক সেই সময়ে ইসরায়েলের এই সামরিক নিষ্ক্রিয়তার সিদ্ধান্ত বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। অপ্রয়োজনীয় বড় ধরনের সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার চেয়ে কূটনৈতিক ও মিত্র দেশগুলোর যৌথ কৌশলের ওপরই তারা বেশি জোর দিচ্ছে বলে প্রতীয়মান হয়।

সামগ্রिक পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি স্পষ্ট যে, লোহিত সাগরের বাণিজ্য রুটের নিরাপত্তা বজায় রাখা এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হুথিদের এই অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ মোকাবিলায় বৈশ্বিক শক্তিগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং বিশ্ববাণিজ্য রক্ষায় কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ইসরায়েলের এই অনীহা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।