সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গজনিত অসুস্থতার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে, যার ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও পাঁচজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা থাকায় এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় আক্রান্তদের অনেকেই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা চিকিৎসকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ১ হাজার ৫৩ জন মানুষ। এই দীর্ঘ সময়ে আক্রান্তের সংখ্যাও রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় স্বাস্থ্য খাতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও কম রোগ প্রতিরোধক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা এই প্রাণঘাতী সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগ ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টিকাদানের কোনো বিকল্প নেই এবং শিশুদের নির্দিষ্ট সময়ে সব কটি টিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি, প্রাথমিক অবস্থায় উপসর্গের লক্ষণ দেখা মাত্রই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং আক্রান্তদের দ্রুত বিচ্ছিন্ন বা কোয়ারেন্টাইনে রাখার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও গণটিকাদান কর্মসূচি আরও বেগবান না করা হলে আগামীতে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং গ্রামীণ অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার অপর্যাপ্ততার কারণে পরিস্থিতি অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই রোগটি নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী আরও কঠোর নজরদারি ও দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা।





































