দেশের যোগাযোগবিচ্ছিন্ন ও দুর্গম অঞ্চলগুলোর সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা, বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এবং নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষ ভাসমান হাসপাতাল বা ‘স্বাস্থ্য তরী’ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগটি বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের নদীমাতৃক ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অনেক এলাকার মানুষ নিয়মিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকেন। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দ্বীপসমূহের বাসিন্দাদের জরুরি মুহূর্তে মূল ভূখণ্ডের হাসপাতালে আসা অত্যন্ত দুরূহ ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। এই বাস্তবতায় ভাসমান এই হাসপাতালগুলোর মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চলে সরাসরি চিকিৎসকদের দল এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ রোগীরা নিজ এলাকার কাছাকাছি বসেই বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধপত্র গ্রহণ করতে পারবেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাবঞ্চিত এসব অঞ্চলের মানুষ বিভিন্ন জটিল রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবার মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
স্বাস্থ্য খাতের এই অভিনব পরিকল্পনা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে আরও বেশি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। খুব শীঘ্রই এই ভাসমান হাসপাতালগুলোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে নির্ধারিত দুর্গম এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু করা হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।





































