যাত্রী সাধারণের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ কমানোর লক্ষ্যে দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে মাত্র আট পয়সা এবং সিটি সার্ভিস বাসে দশ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উপস্থাপন করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি, যা বর্তমান গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাদের মতে, সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের আয়ের কথা বিবেচনা করলে এর চেয়ে বেশি ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সংগঠনটির অভিযোগ, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারক প্রতিষ্ঠানগুলো ভাড়া পুনর্নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য কেবল বাস ও লঞ্চ মালিকদের নিয়েই দফায় দফায় গোপন বা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছে। অথচ এই প্রক্রিয়ায় যারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত বা ভুক্তভোগী পক্ষ, অর্থাৎ সাধারণ যাত্রীদের কোনো ধরনের প্রতিনিধিত্ব রাখা হচ্ছে না। নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় যাত্রীদের এই অবমূল্যায়ন জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে এবং গণপরিবহনের ভাড়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, মালিকপক্ষের অযৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে অতীতেও বহুবার একতরফাভাবে বাসের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে যাতায়াত খরচ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলে তা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে। তাই জনস্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং পরিবহন খাতের যেকোনো পরিবর্তনে ভারসাম্য আনতে যাত্রী প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে যেন কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব না করা হয়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সংগঠনটি। তারা আশা প্রকাশ করেছে যে, কর্তৃপক্ষ মালিকদের পাশাপাশি যাত্রীদের স্বার্থের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে এবং সুষম একটি ভাড়া কাঠামো প্রণয়ন করবে। অন্যথায় সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

































