ঢাকা ০২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যচুক্তিতে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ Logo জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বেরিয়ে গেলেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা Logo ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থাকে নিশ্চিহ্ন করতে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ চলছে: জর্ডান Logo এশিয়ান গেমসের জন্য দেশ ছাড়লেন লিটনরা Logo নিষেধাজ্ঞার পর হোয়াইট হাউসে ফিরলেন এমএস নাও, সিএনএন ও পলিটিকোর সাংবাদিকরা Logo ৩৪ বছর পর এই প্রথম কোনো শিশু জন্মাল প্রত্যন্ত এক স্কটিশ দ্বীপে Logo জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে নিয়োগ পেলেন জাইমা রহমান Logo নাৎসি বন্দিশিবিরে অপরাধের অভিযোগে তদন্তের মুখে ১০৫ বছর বয়সী ব্যক্তি Logo ইরান যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সংলাপে ফেরার আহ্বান শি জিনপিংয়ের Logo ট্রাম্প-সি বৈঠক: বাণিজ্য, এআই ও তাইওয়ান নিয়ে আলোচনায় দুই নেতা

৮৮৮ স্কুলের নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান

টাঙ্গাইল জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার মোট বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কারণে এই শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জেলার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পড়ালেখার মান দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চললেও দ্রুত কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার বারোটি উপজেলার মোট এক হাজার ছয়শ ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটশ আটাশিটিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের আরও পাঁচশ একাত্তরটি পদ দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। সব মিলিয়ে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি করুণ দশা দেখা গেছে ঘাটাইল, কালিহাতী ও নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে। বহু প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত পদের বিপরীতে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পুরো শিক্ষাকার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিক্ষকের অনুমোদিত পদ থাকলেও বাস্তবে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুই থেকে তিনজন। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে হয়। দাপ্তরিক নানা কাজের ব্যস্ততার কারণে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বাকি শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় শিক্ষক নেতারা এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। ঘাটাইল ও মধুপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিক্ষকরা জানান, তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে তাদের পক্ষে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা ক্লাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরাও যথাযথ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মিয়া জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, তবে প্রান্তিক অঞ্চলের শূন্য পদ পূরণের জন্য সংযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষক সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

জনপ্রিয়

বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্যচুক্তিতে যুক্ত হওয়ার পথে বাংলাদেশ

৮৮৮ স্কুলের নেই প্রধান শিক্ষক, ব্যাহত পাঠদান

প্রকাশিত ০১:১৫:৫১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইল জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। জেলার মোট বিদ্যালয়ের অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে কোনো প্রধান শিক্ষক নেই। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতা এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতার কারণে এই শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে জেলার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে এবং পড়ালেখার মান দিন দিন নিচে নেমে যাচ্ছে। শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই সংকট চললেও দ্রুত কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলার বারোটি উপজেলার মোট এক হাজার ছয়শ ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটশ আটাশিটিতেই প্রধান শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের আরও পাঁচশ একাত্তরটি পদ দীর্ঘদিন ধরে ফাঁকা পড়ে আছে। সব মিলিয়ে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি করুণ দশা দেখা গেছে ঘাটাইল, কালিহাতী ও নাগরপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে। বহু প্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত পদের বিপরীতে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় পুরো শিক্ষাকার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে।

বিদ্যালয়গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিক্ষকের অনুমোদিত পদ থাকলেও বাস্তবে কর্মরত রয়েছেন মাত্র দুই থেকে তিনজন। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে একজন সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব নিতে হয়। দাপ্তরিক নানা কাজের ব্যস্ততার কারণে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের পক্ষে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। ফলে বাকি শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপের সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীরা কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়। অনেক অভিভাবক বাধ্য হয়ে তাদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় শিক্ষক নেতারা এই সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। ঘাটাইল ও মধুপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শিক্ষকরা জানান, তীব্র শিক্ষক সংকটের কারণে তাদের পক্ষে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টানা ক্লাস নেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীরাও যথাযথ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন মিয়া জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে বিদ্যালয়গুলোতে সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, তবে প্রান্তিক অঞ্চলের শূন্য পদ পূরণের জন্য সংযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষক সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে।