রাজধানীর বনানী থানার অস্ত্র আইনের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য নতুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের বিচারক ছুটিতে থাকায় নির্ধারিত দিনে শুনানি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারকের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত বিচারক শুনানির জন্য আগামী ২৬ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন। এই দিন সাবেক এই মন্ত্রীকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
নির্ধারিত দিনে অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাবন্দী আনিসুল হককে ঢাকার মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তবে আদালতের মূল বিচারক ছুটিতে থাকায় মামলার কার্যক্রম কিছুটা পিছিয়ে যায়। পরবর্তীতে ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ মামলার নথি পর্যালোচনা করে শুনানির নতুন এই তারিখ নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত বছরের ২৪ মে বনানী থানায় সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলাটি দায়ের করেছিলেন ওই থানার উপপরিদর্শক মো. জানে আলম দুলাল। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, আনিসুল হক বনানী এলাকায় নিজ নামে লাইসেন্সকৃত একটি পিস্তলের মালিক ছিলেন। বিগত সরকারের পতনের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য ইস্যু করা সব আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স স্থগিত করা হয় এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অস্ত্রটি জমা দেননি এবং এ বিষয়ে থানাকে কোনো তথ্যও জানাননি।
পুলিশ তদন্তকালে তাঁর ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পায়নি এবং অস্ত্র জমা দেওয়ার বিষয়ে কোনো বৈধ তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া তিনি কোনো গুলিও ক্রয় করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এসব কারণে তিনি ১৮৭৮ সালের অস্ত্র আইনের ১৯(১) ধারায় অপরাধ করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করার পর মামলাটি বিচারের জন্য সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত গণ-অভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্ট মাসের মাঝামা সময়ে রাজধানীর সদরঘাট এলাকা থেকে আনিসুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় দফায় দফায় রিমান্ডে ছিলেন এবং বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন। দেশের পট পরিবর্তনের পর থেকেই আওয়ামী সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একের পর এক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।





































