ঢাকা ১২:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ৬৩২ জন Logo এআই দিয়ে বিসিএস গেজেট জালিয়াতি, কুয়াকাটায় আটক ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট Logo নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানি প্রেসিডেন্টের বৈঠক, যা আলোচনা হলো Logo নড়াইলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ যুবক মারা গেছেন, এলাকায় উত্তেজনা Logo ভোটার স্থানান্তর কার্যক্রম আবার চালু করল ইসি Logo যুক্তরাষ্ট্রে বোমারু বিমানসহ চীনের প্রেসিডেন্ট সিকে বিরল অভ্যর্থনা ট্রাম্পের Logo কুমিল্লায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানার পুলিশ, আটক ৬২৪ Logo ভারতে মধ্যরাতে বাসে আগুন, ৯ জনের মৃত্যু Logo কুমিল্লায় আটকের পর দরজা ভেঙে পালাল কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ সদস্য Logo কিশোর গ্যাং সন্দেহে কুমিল্লায় এক রাতেই আটক ৬২৪

এআই দিয়ে বিসিএস গেজেট জালিয়াতি, কুয়াকাটায় আটক ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজেকে সরকারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে মো. রাসেল হাওলাদার নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভুয়া পরিচয়ে নানা ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ কুয়াকাটার একটি পর্যটন হোটেলে অবস্থান নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তার সামগ্রিক আচরণ ও কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনা হয়।

অভিযুক্ত যুবক নিজের ভুয়া পরিচয়কে সমাজের চোখে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিনব ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের পথ বেছে নেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট জাল করেছিলেন। ওই গেজেটের একটি নির্দিষ্ট ক্রমিকে থাকা অন্য প্রার্থীর নাম ও তথ্য পরিবর্তন করে নিজের নাম বসিয়ে নেন তিনি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি ও ব্যবহারের গুরুতর প্রমাণও পাওয়া গেছে।

তদন্তে জানা যায়, প্রতারণার এই জাল শুধু বাইরের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি এই ভুয়া পরিচয়ের অপব্যবহার করেছেন। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন এবং উভয় ক্ষেত্রেই নিজেকে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। এমনকি প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকেও কৌশলে প্রায় দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কুয়াকাটায় এসে তিনি একটি স্থানীয় হোটেল কক্ষ বুকিংয়ের পাশাপাশি একটি মোবাইল ফায়ার সার্ভিস বা বিকাশের দোকানে গিয়ে ত্রিশ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, খবর পাওয়ার পর কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেকের নেতৃত্বে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় তার কাছে থাকা বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র ও নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধি অনুযায়ী তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের কোনো প্রতারকের সন্ধান পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

সিলেটে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ৬৩২ জন

এআই দিয়ে বিসিএস গেজেট জালিয়াতি, কুয়াকাটায় আটক ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেট

প্রকাশিত ১২:১৬:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় নিজেকে সরকারি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে মো. রাসেল হাওলাদার নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভুয়া পরিচয়ে নানা ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। সর্বশেষ কুয়াকাটার একটি পর্যটন হোটেলে অবস্থান নিয়ে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তার সামগ্রিক আচরণ ও কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আনা হয়।

অভিযুক্ত যুবক নিজের ভুয়া পরিচয়কে সমাজের চোখে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে অভিনব ও প্রযুক্তির অপব্যবহারের পথ বেছে নেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট জাল করেছিলেন। ওই গেজেটের একটি নির্দিষ্ট ক্রমিকে থাকা অন্য প্রার্থীর নাম ও তথ্য পরিবর্তন করে নিজের নাম বসিয়ে নেন তিনি। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া নিয়োগপত্র তৈরি ও ব্যবহারের গুরুতর প্রমাণও পাওয়া গেছে।

তদন্তে জানা যায়, প্রতারণার এই জাল শুধু বাইরের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি এই ভুয়া পরিচয়ের অপব্যবহার করেছেন। তিনি একাধিক বিয়ে করেছেন এবং উভয় ক্ষেত্রেই নিজেকে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছেন। এমনকি প্রথম স্ত্রীর কাছ থেকেও কৌশলে প্রায় দশ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কুয়াকাটায় এসে তিনি একটি স্থানীয় হোটেল কক্ষ বুকিংয়ের পাশাপাশি একটি মোবাইল ফায়ার সার্ভিস বা বিকাশের দোকানে গিয়ে ত্রিশ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, খবর পাওয়ার পর কলাপাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন সাদেকের নেতৃত্বে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। এ সময় তার কাছে থাকা বিভিন্ন ভুয়া কাগজপত্র ও নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধি অনুযায়ী তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং এ ধরনের কোনো প্রতারকের সন্ধান পেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।