ঢাকা ০১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুক হামলায় নিহত ১৭ Logo ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের ছোবলের শিকার রাবি শিক্ষার্থী Logo সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে যা ঘটেছে, মেনে নেওয়ার মতো নয়: সাদিয়া আয়মান Logo তরুণ উদ্যোক্তার খোঁজে বাকৃবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতবিনিময় সভা Logo ‘পাশের জমির মালিকের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে’ সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, আটক ৩: পুলিশ Logo বাগেরহাটে পলিথিনে মোড়ানো শিশুর গলাকাটা মরদেহ, গ্রেপ্তার ৩ Logo ভারতের উত্তরপ্রদেশে প্রবল বৃষ্টি-বজ্রসহ ঝড়, নিহত ১০ Logo নড়াইলে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কৃষককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ Logo নদীতে ভেসে যাওয়া ছোট্ট হাতিকে পৌঁছে দেওয়া হলো মা হাতির কাছে Logo নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হল কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি, মধ্যরাতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

সন্তানের সঙ্গে প্রতিবেশী শিশুর দ্বন্দ্ব, বাসায় ডেকে আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ

নাটোর সদর উপজেলায় শিশুদের মধ্যকার একটি সাধারণ বাকবিতণ্ডার জেরে সাত বছরের এক শিশুর হাতের আঙুল কেটে ফেলার মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সাকিল আহমেদ নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত একজন কনস্টেবল। আহত শিশু বাইজিদ বিন মাহমুদ নাটোর পুলিশ লাইনস স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং সে তার মায়ের সঙ্গে ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে। এই পৈশাচিক ঘটনাটি পুরো এলাকায় গভীর চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ওই ভাড়া বাড়ির বাসিন্দারা মিলে একটি পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে পুলিশ সদস্য সাকিলের পাঁচ বছরের মেয়ের সঙ্গে শিশু বাইজিদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। মূলত এই ক্ষোভ থেকেই শিশুটির ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন ওই পুলিশ সদস্য ও তাঁর স্ত্রী। ঘটনার দিন সকালে বাইজিদকে কৌশলে বা জোরপূর্বক নিজেদের বাসায় ডেকে নিয়ে যান তারা।

কিছুক্ষণ পরেই ওই ঘর থেকে শিশুটির আর্তনাদ ও কান্নার আওয়াজ শুনতে পান আশপাশের প্রতিবেশীরা। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি ঘর থেকে বেরিয়ে এলে তার ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন বা কাটা অবস্থায় দেখা যায়। প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে এমন নৃশংস ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল সাকিল আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং বাসায় গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। ঢাকায় বেসরকারি চাকরিমুখী শিশুটির বাবা এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। নাটোর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুক হামলায় নিহত ১৭

সন্তানের সঙ্গে প্রতিবেশী শিশুর দ্বন্দ্ব, বাসায় ডেকে আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত ০৩:০১:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোর সদর উপজেলায় শিশুদের মধ্যকার একটি সাধারণ বাকবিতণ্ডার জেরে সাত বছরের এক শিশুর হাতের আঙুল কেটে ফেলার মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত সাকিল আহমেদ নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত একজন কনস্টেবল। আহত শিশু বাইজিদ বিন মাহমুদ নাটোর পুলিশ লাইনস স্কুলের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং সে তার মায়ের সঙ্গে ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে। এই পৈশাচিক ঘটনাটি পুরো এলাকায় গভীর চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি ওই ভাড়া বাড়ির বাসিন্দারা মিলে একটি পিকনিকের আয়োজন করেছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে পুলিশ সদস্য সাকিলের পাঁচ বছরের মেয়ের সঙ্গে শিশু বাইজিদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। মূলত এই ক্ষোভ থেকেই শিশুটির ওপর চরম প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন ওই পুলিশ সদস্য ও তাঁর স্ত্রী। ঘটনার দিন সকালে বাইজিদকে কৌশলে বা জোরপূর্বক নিজেদের বাসায় ডেকে নিয়ে যান তারা।

কিছুক্ষণ পরেই ওই ঘর থেকে শিশুটির আর্তনাদ ও কান্নার আওয়াজ শুনতে পান আশপাশের প্রতিবেশীরা। এরপর রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটি ঘর থেকে বেরিয়ে এলে তার ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন বা কাটা অবস্থায় দেখা যায়। প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে এমন নৃশংস ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল সাকিল আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে গেছেন। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং বাসায় গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি। ঢাকায় বেসরকারি চাকরিমুখী শিশুটির বাবা এই বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। নাটোর সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।