ঢাকা ০৫:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নিহত ৫, তিন ভাইবোনের পর বাবার লাশ উদ্ধার Logo একদিনে হাম উপসর্গে আরো ৩ জনের মৃত্যু; আক্রান্ত ১৩১০ Logo ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি সরকার পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন’ Logo বাসা চার-পাঁচতলায়, লিফট নেই, সিঁড়ি বেয়ে ওঠায় কী সুবিধা Logo কামাল মজুমদারসহ ১৯ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল Logo অভিযাত্রায় সংবাদ প্রকাশের পর শুরু হলো পাবিপ্রবির মাঠ সংস্কার কাজ Logo গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে নিহত Logo এমআইটি হ্যাকাথনের স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে বিজয়ী দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী Logo অনলাইন বিনিয়োগের ফাঁদে ৩৪ লাখ টাকা, অর্থ গেছে কম্বোডিয়ায় Logo আশ্রয়ের কথা বলে সন্তানদের সামনে মাকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে নিহত

গাজীপুরের পুবাইল থানাধীন মেঘডুবি এলাকায় সম্প্রতি একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও আড়াই বছরের শিশুকন্যা নিহত হয়েছেন। ঢাকা-বাইপাস মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বা হাঁটার সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাদের সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হয়ে মহাসড়কে পড়ে থাকেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত রুজুকা বেগমের বয়স হয়েছিল ত্রিশ বছর এবং তার শিশুকন্যার নাম ইয়ামনি। পরিবারটি স্থানীয় একটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত এবং তাদের গ্রামের বাড়ি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার বাগহাতা গ্রামে। গৃহকর্তা মনির হোসেনের স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকস্তব্ধ।

ঘটনার রাতে মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। মূলত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুবাইল থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান চালায়। পুলিশ সদস্যরা বিলম্ব না করে আহত মা ও মেয়েকে দ্রুত গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরও তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি পরিস্থিতি তৈরি করে।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রুজুকা বেগমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত শিশু ইয়ামনিকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালান, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক তিনটার দিকে ছোট্ট ইয়ামনিও না ফেরার দেশে চলে যায়। এক ঘটনায় মা ও মেয়ের একসঙ্গে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে হাসপাতাল চত্বরে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শিশুটির মৃত্যু পরিবার ও এলাকাবাসীকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।

পুবাইল থানার পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে নিহতদের মরদেহ বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ এই হিট অ্যান্ড রান ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত গাড়িটি শনাক্ত করার জন্য தீவிர তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধী বাহন ও এর চালককে খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয়

মেঘনায় ট্রলারডুবিতে নিহত ৫, তিন ভাইবোনের পর বাবার লাশ উদ্ধার

গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মা-মেয়ে নিহত

প্রকাশিত ০৩:৩০:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুরের পুবাইল থানাধীন মেঘডুবি এলাকায় সম্প্রতি একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মা ও আড়াই বছরের শিশুকন্যা নিহত হয়েছেন। ঢাকা-বাইপাস মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বা হাঁটার সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাদের সজোরে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তারা গুরুতর আহত হয়ে মহাসড়কে পড়ে থাকেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত রুজুকা বেগমের বয়স হয়েছিল ত্রিশ বছর এবং তার শিশুকন্যার নাম ইয়ামনি। পরিবারটি স্থানীয় একটি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করত এবং তাদের গ্রামের বাড়ি শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার বাগহাতা গ্রামে। গৃহকর্তা মনির হোসেনের স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পরিবারটি এখন শোকস্তব্ধ।

ঘটনার রাতে মহাসড়কের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। মূলত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুবাইল থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার অভিযান চালায়। পুলিশ সদস্যরা বিলম্ব না করে আহত মা ও মেয়েকে দ্রুত গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টার পরও তাদের জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়নি, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক একটি পরিস্থিতি তৈরি করে।

হাসপাতালে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা রুজুকা বেগমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত শিশু ইয়ামনিকে বাঁচানোর জন্য চিকিৎসকরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালান, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আনুমানিক তিনটার দিকে ছোট্ট ইয়ামনিও না ফেরার দেশে চলে যায়। এক ঘটনায় মা ও মেয়ের একসঙ্গে এমন আকস্মিক মৃত্যুতে হাসপাতাল চত্বরে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শিশুটির মৃত্যু পরিবার ও এলাকাবাসীকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।

পুবাইল থানার পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে নিহতদের মরদেহ বর্তমানে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। পুলিশ এই হিট অ্যান্ড রান ঘটনার সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাত গাড়িটি শনাক্ত করার জন্য தீவிர তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। অপরাধী বাহন ও এর চালককে খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।