ঢাকা ০৭:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে মার্কিন অঙ্গরাজ্য টেনেসি Logo নিজের মৃত্যুর ভুয়া খবর নিয়ে পাকিস্তানি ক্রিকেটারের মজা Logo দুই বড় জাহাজের সংঘর্ষে মাঝখানে পড়ে যায় লাইটার, শ্রমিকের চিৎকার—‘আল্লাহরে, ইন্না লিল্লাহ’ Logo গাজা অভিযানের সময় ইসরাইলকে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ দিয়েছিল ভারত Logo দিল্লির একজন পুরুষের দেহে গর্ভাশয় কীভাবে? Logo সারা দুনিয়ায় ২০২৬, কিন্তু ইথিওপিয়াতে কেন ২০১৯ সাল Logo এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ কিনছে সরকার, চুক্তি অক্টোবরে: বিমানমন্ত্রী Logo যে সমীকরণে সেমিফাইনালে উঠল বাংলাদেশ Logo মিয়ানমারের শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো শুরু করেছে মালয়েশিয়া Logo একযোগে ৬৮ এসিল্যান্ডকে প্রত্যাহার

গাজা অভিযানের সময় ইসরাইলকে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ দিয়েছিল ভারত

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চলমান অভিযানের সময় তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ভারত। মানবাধিকার সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই ধরনের সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করার ফলে ইসরাইল কর্তৃক সংঘটিত মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করার ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহლი গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রাণঘাতী সামরিক প্রযুক্তি এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টির সঙ্গে আরও বড় একটি বিপদ জড়িত। মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের মাধ্যমে এসব অস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়, তা পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের ওপর প্রয়োগ করার প্রবণতা বাড়ায়। এর একটি বাস্তব ও মারাত্মক পরিণতি সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রত্যক্ষ করা গেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মারাত্মক পেলেট গান ব্যবহার করে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী।

নয়াদিল্লির ওই ঘটনায় অন্তত দশজন সাধারণ নাগরিক গুরুতর আহত হন এবং তাদের মধ্যে এক যুবকের স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মূলত ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জনতা দমনে পেলেট গান ব্যবহারের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা এখন দেশটির মূল ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধক্ষেত্রের অস্ত্র পরীক্ষার পরীক্ষাগার কীভাবে ধীরে ধীরে নাগরিক সমাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কোনো নির্দিষ্ট সংঘাতে ব্যবহারের মাধ্যমে যে অস্ত্রের ব্যবহার বা দমনমূলক পদ্ধতির বৈধতা তৈরি হয়, তা সাধারণত সংশ্লিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সময়মতো এর রাশ টেনে না ধরলে তা সারা দেশে সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির নৈতিকতা এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাববার সময় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয়

২০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে মার্কিন অঙ্গরাজ্য টেনেসি

গাজা অভিযানের সময় ইসরাইলকে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ দিয়েছিল ভারত

প্রকাশিত ০৬:১৫:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর চলমান অভিযানের সময় তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং গোলাবারুদ পাঠিয়েছে ভারত। মানবাধিকার সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে যে, এই ধরনের সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করার ফলে ইসরাইল কর্তৃক সংঘটিত মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করার ঝুঁকি রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহლი গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রাণঘাতী সামরিক প্রযুক্তি এক দেশ থেকে অন্য দেশে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টির সঙ্গে আরও বড় একটি বিপদ জড়িত। মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের মাধ্যমে এসব অস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়, তা পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের ওপর প্রয়োগ করার প্রবণতা বাড়ায়। এর একটি বাস্তব ও মারাত্মক পরিণতি সম্প্রতি ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রত্যক্ষ করা গেছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মারাত্মক পেলেট গান ব্যবহার করে, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থী।

নয়াদিল্লির ওই ঘটনায় অন্তত দশজন সাধারণ নাগরিক গুরুতর আহত হন এবং তাদের মধ্যে এক যুবকের স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মূলত ভারতের জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জনতা দমনে পেলেট গান ব্যবহারের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা এখন দেশটির মূল ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে যুদ্ধক্ষেত্রের অস্ত্র পরীক্ষার পরীক্ষাগার কীভাবে ধীরে ধীরে নাগরিক সমাজের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে উঠছে।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, কোনো নির্দিষ্ট সংঘাতে ব্যবহারের মাধ্যমে যে অস্ত্রের ব্যবহার বা দমনমূলক পদ্ধতির বৈধতা তৈরি হয়, তা সাধারণত সংশ্লিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং সময়মতো এর রাশ টেনে না ধরলে তা সারা দেশে সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানির নৈতিকতা এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাববার সময় এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।